পদ্মা থেকে যুবকের হাত বাঁধা মরদেহ উদ্ধার, মেলেনি পরিচয়

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

রাজশাহীর পদ্মা নদী থেকে হাত বাঁধা এবং গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ করেছে পুলিশ। তবে এখনো তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। পুলিশ আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় বের করার চেষ্টা করেছে। তাতেও পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর বড়কুঠি-সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীর থেকে ভাসমান অবস্থায় এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, নিহত যুবকের বয়স আনুমানিক ২৩ বছর।

নৌ পুলিশ ও থানা সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া যুবকের পরনে ছিল নেভি ব্লু রঙের জিনসের প্যান্ট এবং টিয়া রঙের টি-শার্ট। তাঁর গলায় একটি গামছা শক্ত করে প্যাঁচানো ছিল এবং সেই গামছারই অপর অংশ দিয়ে তাঁর দুটি হাত একসাথে বাঁধা ছিল। মরদেহ অবস্থা দেখে সুরতহাল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, কয়েক দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে।

নগরের বোয়ালিয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছি। এটি হত্যাকাণ্ড মনে হয়েছে। কিন্তু এই এলাকায় তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে নাকি মরদেহ দূর থেকে ভেসে এসেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

রবিইল ইসলাম জানান, যেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, সেটি নৌ পুলিশের অধীনে। তাই নৌ পুলিশই এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেবে। রোববার দুপুর পর্যন্ত তার থানায় কোনো মামলা হয়নি।

রাজশাহী মহানগর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বিকাশ মন্ডল বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সহযোগিতায় আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভাণ্ডারের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েক দিন আগে মৃত্যু হওয়ায় মরদেহে পচন ধরেছে। এ জন্য ঠিকমতো আঙুলের ছাপ পাওয়া যায়নি। তাই এই পদ্ধতিতে নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

বিকাশ মন্ডল আরও জানান, কোথাও এই ধরনের যুবক নিখোঁজ আছেন কি না, সেটি জানতে চেয়ে সারা দেশের সব থানায় বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেদিক থেকেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তারা নিহত যুবকের পরিচয় উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর তারা মরদেহ দাফন এবং মামলা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

Advertisement

Link copied!