হানিট্র্যাপে ফাঁসিয়ে অর্থ আদায়কারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৬ জুলাই, ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম

রাজধানীর সবুজবাগ, খিলগাঁও ও বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রটি ঋণগ্রহীতার পরিচয় ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের ডেকে নিয়ে আপত্তিকর অবস্থার ভিডিও ধারণ করত এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করত।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আনোয়ার হোসেন (৪৫), বদিউজ্জামান শাহীন (৪৫), মরিয়ম (৪৯), শাহাদাত হোসেন (৫৮) ও উর্মী বেগম (৩৯)।

সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া কেন্দ্রে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ও বিশেষ অপরাধ বিভাগের দক্ষিণাঞ্চলের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তরিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত ১৫ এপ্রিল একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এক ঋণ কর্মকর্তা ঋণ সংক্রান্ত কাজে রামপুরার দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার একটি বাজারে গেলে সেখানে এক নারী নিজেকে ঋণগ্রহীতা পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে পরিচিত হন এবং তাঁর কাছ থেকে ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করেন।

পরবর্তীতে ওই নারী মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রেখে ধীরে ধীরে ভুক্তভোগীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। পরে বনশ্রী ইউনিটি হাসপাতালের সামনে দেখা করার কথা বলে তাকে ডেকে নেওয়া হয়।

সেখান থেকে আরেক নারী তাকে খিলগাঁও এলাকার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। ফ্ল্যাটে প্রবেশের পর আগে থেকে থাকা আরও কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধর করে এবং এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থার ভিডিও ধারণ করে।

এ সময় তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ টাকা, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোটরসাইকেলের নথিপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

পরে চক্রটি তার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করে এবং ব্যাংক হিসাব থেকে বিকাশ ও উপায়ের মাধ্যমে এক লাখ দশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে বারবার ব্ল্যাকমেইল করা হয়।

এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্তে নেমে গোয়েন্দা পুলিশ গত তিন জুলাই সবুজবাগ, খিলগাঁও ও বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে নয়টি মোবাইল ফোন, একটি যোগাযোগ যন্ত্র এবং চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

 

গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, জব্দ করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল উপকরণ বিশ্লেষণ করে একই কৌশলে আরও একাধিক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে নির্যাতন ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। চক্রটির অন্যান্য সদস্য ও সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Link copied!