ময়মনসিংহে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে আশরাফুল ইসলাম মামুন (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি সদর উপজেলার চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের দিগলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং কাঠমিস্ত্রী আব্দুল খালেকের ছেলে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে গত বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে নগরীর শম্ভুগঞ্জ মাছবাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরদিন নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬ অনুযায়ী কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন জেলা গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক ইমরান।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, শম্ভুগঞ্জ মাছবাজার এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি অনলাইনে জুয়া খেলছেন এবং বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেন করছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় আশরাফুল ইসলাম মামুনকে আটক করা সম্ভব হলেও তার সঙ্গে থাকা আরও তিন থেকে চারজন পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশি করে একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। পুলিশ জানায়, মুঠোফোনে অনলাইন জুয়ার ৯৩টি পর্দাচিত্র, বিভিন্ন অনলাইন বাজির প্রয়োগ এবং অনলাইন জুয়ার একাধিক সাইট ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারের পর এলাকায় খোঁজ নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাত্র দুই বছর আগেও মামুন একটি তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে নিজ এলাকায় একটি মুঠোফোনে অর্থ ভরার দোকান চালু করেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই দোকানে নিয়মিত অপরিচিত যুবকদের আনাগোনা ছিল এবং সেখান থেকেই তার আর্থিক উত্থান শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে তিনি প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৬ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত তিনতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি, ১৮ শতাংশ জমিতে গবাদিপশুর খামার এবং ৫ শতাংশ জমির ওপর একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এছাড়া নিজের নিরাপত্তার জন্য খামারের কার্যালয়ে একটি আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র রাখতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার নামে-বেনামে আরও জমিজমা থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক ইমরান বলেন, আশরাফুল ইসলাম মামুনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার অভিযোগ ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :