কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রুপ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শ্যামল মিয়া (৪০)কে আটক করেছে পুলিশ।
গত রবিবার (৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার এলংজুরী ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রূপ মিয়া (৪০) নূরপুর গ্রামের আবদুল মোতালিবের ছেলে। আটক শ্যামল মিয়া একই গ্রামের চুন্নু মিয়ার ছেলে। পুলিশের ভাষ্য, তার বিরুদ্ধে চুরি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে নূরপুর গ্রামের একটি দোকানে বসে ছিলেন রূপ মিয়া। এ সময় সেখানে গিয়ে শ্যামল মিয়ার সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শ্যামল মিয়া ও তার সহযোগীরা রূপ মিয়াকে ছুরিকাঘাত করে পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, রূপ মিয়া একসময় শ্যামল মিয়ার সঙ্গে চলাফেরা করলেও কিছুদিন আগে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপর তিনি শ্যামল মিয়ার কথিত মাদক ব্যবসার বিরোধিতা শুরু করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নূরপুর এলাকায় শ্যামল মিয়া ও বিপ্লবের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। অতীতে কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে এসে তারা পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ খান জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে আটক করে থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী মামলা রুজু করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :