ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী কাঁচামাটিয়া নদীকে অবৈধ দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষা করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) বিকেলে উপজেলা পরিষদের সামনে ‘পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ’ (পিএফজি)-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক সময়ের প্রমত্তা কাঁচামাটিয়া নদী আজ প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখল এবং নির্বিচারে বর্জ্য ফেলার কারণে সরু খালে পরিণত হয়েছে। নদীর বুকে অবৈধ রাস্তা নির্মাণ ও অপরিকল্পিত ভরাটের কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে নদীটি অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পিএফজি কো-অর্ডিনেটর সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য ও আমাদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় এই নদী বাঁচানোর কোনো বিকল্প নেই। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নব্যতা ফিরিয়ে আনুক।”
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পিএফজি অ্যাম্বাসেডর এ.কে.এম. আতিকুর রাজ্জাক ভূঁইয়া হীরা বলেন, “কাঁচামাটিয়া নদী আমাদের কৃষি ও অস্তিত্বের প্রাণস্পন্দন। এক শ্রেণির প্রভাবশালী মহলের সীমানহীন লোভের বলি হতে চলেছে এই নদী। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব কামাল হোসেন সরকার অবিলম্বে নদী খনন ও দখলমুক্ত করা না হলে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে তীব্র প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দেন।
স্মারকলিপিতে নদী রক্ষায় ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়: ১. সকল অবৈধ দখলদার চিহ্নিত করে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা। ২. নদীতে বর্জ্য ফেলা ও দূষণ বন্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ। ৩. জরুরি ভিত্তিতে নদী খনন (ড্রেজিং) কার্যক্রম শুরু করা। ৪. নদীর তীর সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করা। ৫. স্থায়ী মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ৬. জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ ইউসুফ লিটন, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালি হামিদ, সুজন সম্পাদক নীলকণ্ঠ আইচ মজুমদার, সাবেক পৌর কাউন্সিলর মমতাজ বেগম প্রমুখ। কর্মসূচিতে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। স্মারকলিপির অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :