সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে এক বছরেও চালু হয়নি কাঙ্ক্ষিত ক্যান্টিন: ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ক্যান্টিনটি গত বছর ঈদুল আযহার পর চালু হওয়ার কথা থাকলেও, এক বছর পেরিয়ে আবারও ঈদুল আযহা ফিরে এলেও তা আজও চালু হয়নি। গত বছর ক্যান্টিনের অবকাঠামো তৈরি করা হলেও সেখানে কোনো ধরনের খাদ্যসামগ্রী পাওয়া যায় না। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করার কথা, সেখানে পড়ে আছে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ।

ক্যান্টিনে খাবার না মেলায় শিক্ষার্থীদের বাইরে থেকে অস্বাস্থ্যকর খাবার কিনে খেতে হচ্ছে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তাঁরা। শিক্ষার্থীরা জানান, রাজধানীর একটি বড় কলেজ হওয়া সত্ত্বেও এতদিনেও ক্যান্টিন চালু না হওয়া দুঃখজনক। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য নির্ভরযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নেই, ফলে তাঁদের বেশি টাকা খরচ করে বাইরে থেকে খাবার খেতে হচ্ছে।

সোহরাওয়ার্দী কলেজের ইংরেজি বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী মোঃ ইমরান হাসান বলেন, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখে ও শুনে আসছি যে আমাদের ক্যাম্পাসে একটি ক্যান্টিনের কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে এবং এটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিও রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, এখনো পর্যন্ত ক্যান্টিনটি চালু করা হয়নি।" তিনি আরও জানান যে ক্যাম্পাসে একটি ক্যান্টিন থাকলে শিক্ষার্থীরা অনেক উপকৃত হবে। বর্তমানে টিফিন বা অবসর সময়ে তাঁদের ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়ে নাস্তা করতে হয়, যার ফলে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এবং অনেক সময় ক্লাসও মিস হয়। যেহেতু ক্যান্টিনের কাঠামো ইতোমধ্যেই রয়েছে, তাই দ্রুত এটি চালু করা হলে শিক্ষার্থীরা সহজেই ক্যাম্পাসের ভেতরে খাবারের সুবিধা পাবে এবং তাদের সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমবে। তাই শিক্ষার্থীদের সার্বিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে দ্রুত ক্যান্টিন চালুর দাবি জানান তিনি।

ক্যান্টিনকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাজিব বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ক্যান্টিন চালুর দাবিতে আমরা অধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। পরে ক্যান্টিন স্থাপনও করা হয়। কিন্তু স্থাপনের এক মাস পেরিয়ে গেলেও ক্যান্টিন চালু হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যাডাম আমাদের খুব দ্রুত চালুর আশ্বাস দেন। তবে এক বছর পার হয়ে গেলেও ক্যান্টিন চালু করতে না পারা প্রশাসনের ব্যর্থতাই প্রমাণ করে। বিষয়টি নিয়ে বারবার জানতে চাইলেও প্রশাসন তাঁদের কাছে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।

সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জসীমউদ্দিন বলেন, একটি ক্যাম্পাসে ক্যান্টিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের কলেজে দীর্ঘদিন কোনো ক্যান্টিন ছিল না। শিক্ষার্থীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ক্যান্টিন স্থাপন করা হয়েছে। তবে স্থাপন করার পরও কেন এটি চালু করা হচ্ছে না, তা তাঁর জানা নেই। তিনি দ্রুত ক্যান্টিন চালুর দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, এখানে একজনকে টেন্ডার দেওয়া এবং নির্ধারিত মূল্যতালিকা করে দিলে ক্যান্টিনটি পরিচালনা করা সম্ভব হতো। অনেক টাকা খরচ করে ক্যান্টিন স্থাপন করা হলেও এখন সেটি পড়ে আছে। বিষয়টি তাঁরা অধ্যক্ষকে বারবার জানিয়েছেন, কিন্তু এখনো ক্যান্টিন চালু হচ্ছে না। এটি প্রশাসনিক বাধা নাকি অর্থনৈতিক সমস্যা, সেটাও তাঁরা বুঝতে পারছেন না।

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায় জানান, ক্যান্টিন নির্মাণের জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ ছিল না। শিক্ষার্থীদের দাবিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কলেজের উন্নয়ন তহবিল থেকে ক্যান্টিনটি নির্মাণ করা হয়েছে। ক্যান্টিন চালু না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, "ক্যান্টিনটি কার কাছে পরিচালনার দায়িত্ব দেব, সে ধরনের উপযুক্ত লোক এখনো পাওয়া যায়নি। এ কারণে চালু করতে দেরি হচ্ছে। টেন্ডার আহ্বানের জন্য মৌখিকভাবে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কিন্তু যতবারই ক্যান্টিন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, ততবারই বিভিন্ন জটিলতা সামনে আসছে। আমি চাই স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে ক্যান্টিন চালু হোক, যাতে এ বিষয়ে আমাকে কেউ রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে। এসব কারণেই ক্যান্টিন চালু করতে সময় লাগছে।"

তিনি আরও বলেন, "এখানে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যাও রয়েছে। ক্যান্টিন ভাড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী কোন খাতে জমা হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। কারণ, কলেজের কোনো স্থাপনা ভাড়া দিয়ে সেই অর্থ সংরক্ষণের নির্দিষ্ট খাত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। আশা করছি, তারা দ্রুত একটি সমাধান দেবে। সমাধান পাওয়ার আগে ক্যান্টিন চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মেনেই এটি চালু করতে চাই। ক্যান্টিন তো শিক্ষার্থীদের জন্যই করা হয়েছে, অবশ্যই এটি চালু করা হবে।"

Link copied!