দেয়ালে বিজ্ঞাপন নয়, এক ক্লিকেই মিলবে বাসা

আলমগীর হোসেন , নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:২০ পিএম

নতুন শহরে পা রাখা কিংবা প্রয়োজনের তাগিদে পছন্দের এলাকায় বাসা খুঁজে পাওয়া

বরাবরই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা কিংবা জনবহুল জেলা শহরগুলোতে সাধ্যের মধ্যে ভাড়া বাসা খুঁজে পেতে নাজেহাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে।

এই সনাতন ভোগান্তি দূর করতে এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে আবাসন সমস্যার সহজ সমাধান দিতে কাজ করছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য টুলেট’ (thetolet.com)। ২০১৬ সালে তরুণ উদ্যোক্তা অমিত ঘোষ অন্তর হাত ধরে শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি বর্তমানে দেশের বৃহত্তম অনলাইন আবাসন মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন এর ফাউন্ডার ও সিইও অমিত ঘোষ অন্তু।

শুরুর গল্প: কোডিং শেখার জেদ থেকে সমস্যার সমাধান অমিত ঘোষ অন্তর বেড়ে ওঠা নেত্রকোনার মুক্তারপাড়ায়। ২০১৪ সালে এইচএসসি শেষ করে পরিবারের দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও কোডিং শেখার টানে তিনি ঢাকায় পাড়ি জমান। তিনি বলেন, “ব্যস্ততম ঢাকায় তখন দেখতাম, মানুষ বাসা খোঁজার জন্য দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার দেখে রোদে-বৃষ্টিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই ভোগান্তি দেখেই একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরির চিন্তা করি। সেই স্বপ্ন থেকেই ২০১৬ সালে ‘দ্য টুলেট’-এর যাত্রা শুরু।” টেক রেভোল্যুশন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় থেকেই তাঁর এই উদ্যোগ।

কীভাবে কাজ করে ‘দ্য টুলেট’?

দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের মধ্যে সরাসরি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে এই প্ল্যাটফর্ম। ফ্যামিলি বাসা, ব্যাচেলর মেস, অফিস, হোস্টেল কিংবা সাবলেট ভাড়া সংক্রান্ত সব সমাধান মেলে এই ওয়েবসাইট ও অ্যাপে। অমিত জানান, “এখানে কোনো দালাল ছাড়াই সরাসরি বাড়িওয়ালার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব। লোকেশন ও বাজেট অনুযায়ী ‘ফিল্টার’ করার সুবিধা থাকায় সময় ও খরচ দুটোই বাঁচে। আমাদের ‘৭ দিনে বাসা খুঁজে পাওয়ার সার্ভিসটি’ গ্রাহকদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়।” এছাড়া বাড়িওয়ালারা এখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।

সাড়ে সাত লাখ গ্রাহকের আস্থা বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটির নিবন্ধিত ব্যবহারকারী প্রায় সাড়ে সাত লাখ। মোট বাসা ভাড়ার পোস্ট রয়েছে প্রায় তিন লাখের মতো। প্রতিদিন গড়ে ৪৫০ জন নতুন ব্যবহারকারী যুক্ত হচ্ছেন। অমিতের মতে, এই বিশাল ইউজার বেস প্রমাণ করে যে মানুষ এখন সনাতন পদ্ধতির চেয়ে প্রযুক্তির ওপর বেশি ভরসা করছে।

‘বাসা খুঁজে আয় করুন’: কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার

দ্য টুলেট কেবল সেবা নয়, তৈরি করছে আয়ের পথও। অমিত বলেন, “আমরা তরুণদের জন্য আয়ের সুযোগ তৈরি করেছি। বর্তমানে সারা বাংলাদেশে আমাদের ৭০ জনের বেশি ফিল্ড এক্সিকিউটিভ এবং ৩৫০ জনের বেশি কমিউনিটি এজেন্ট কাজ করছেন। তারা এলাকার খালি বাসার তথ্য সংগ্রহ করে আমাদের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেন এবং সফল সংযোগের মাধ্যমে নিয়মিত উপার্জন করছেন।”

এই উদ্যোগে নারীদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো। নমনীয় কাজের পরিবেশের কারণে অনেক নারী নিজেদের সময় অনুযায়ী কাজ করে সফল হচ্ছেন, যা পরোক্ষভাবে নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখছে।

এ ব্যাপারে অমিত ঘোষ বলেন, "আমরা আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পারি, আমরা শুধু সেবা দিচ্ছি না, কর্মসংস্থানের সুযোগও দিচ্ছি।"

কেন বেছে নেবেন এই অ্যাপ?

প্রচলিত দালালি প্রথা বা লিফলেট পদ্ধতির চেয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অনেক বেশি স্বচ্ছ। এখানে যাচাইকৃত (Verified) লিস্টিং থাকায় প্রতারণার ঝুঁকি কম।

বাড়িওয়ালাদের জন্য সুবিধা হলো, তাদের আর কষ্ট করে দেয়ালে লিফলেট লাগাতে হয় না।

অমিত ব্যাখ্যা করেন, “লিফলেট কেবল একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষ দেখে, কিন্তু অনলাইনে সারা দেশের মানুষ তা দেখতে পায়। পিন পোস্ট বা ডিঅ্যাক্টিভ করার সুবিধা থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি থাকে বাড়িওয়ালার নিয়ন্ত্রণে।”

ভবিষ্যৎ স্বপ্ন: লিফলেটমুক্ত বাংলাদেশ অমিত ঘোষ অন্তর স্বপ্ন বড়। তিনি চান বাংলাদেশের প্রতিটি রাস্তা ও দেয়ালকে ‘বাসা ভাড়া হবে’ লেখা লিফলেট থেকে মুক্ত করতে। তিনি জানান, “সবকিছু হবে  ডিজিটাল। আমাদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের পর দ্রুতই আইওএস (IOS) সংস্করণ চালু হবে। আমাদের লক্ষ্য আবাসন সমস্যার সমাধান এক ক্লিকে নিয়ে আসা। একদিন বাংলাদেশ থেকে জন্ম নেওয়া এই প্ল্যাটফর্মটি বিশ্বজুড়ে স্মার্ট সলিউশনের উদাহরণ হয়ে থাকবে।

 

Advertisement

Link copied!