ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি, হুমকি প্রদান, ইভটিজিং ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে ৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ নামে মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঝিনাইদহ সদর থানায় উপস্থিত হয়ে মামলা দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী উর্মিলা তন্বী ও ইশমাম হোসেন তন্দ্রা।
অভিযুক্তরা হলেন, মোঃ হাসিবুল রহমান, মোঃ সোহেল আহম্মদ, খন্দকার সাব্বির, মোঃ মাশরাফি আলম প্রাপ্যসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে চারজন বন্ধু মিলে ঝিনাইদহ শহরের মুজিব চত্বরস্থ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ঘুরতে যান তারা। এসময় স্থানীয় ১৫-২০ জন বখাটে যুবক তাদের উদ্দেশ্য করে অশালীন মন্তব্য ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগালি শুরু করে। প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং সংঘবদ্ধভাবে ইভ টিজিংসহ বিভিন্নভাবে তাদের হেনস্তা করে। এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে। তাদের গায়ে হাত দেওয়া, পোশাক টানাটানি করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে তাদের এক বন্ধু বি.এম. শাকিলকে মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগীরা আরো বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও অভিযুক্তরা বেপরোয়া আচরণ অব্যাহত রাখে বলে। এসময় অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের অজ্ঞাতে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় যেখানে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর ক্যাপশন ব্যবহার করা হয়, যা তাদের সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা প্রায়ই ওই এলাকায় ঘুরতে আসা নারী-পুরুষদের একইভাবে হেনস্তা করে থাকে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
এজাহারে বেশ কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইল থেকে কুরুচিপূর্ণ শিরোনাম ও মন্তব্যসহ শেয়ার করার অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে - ‘ঝিনেদার আকাশ’, ‘Creative By Prappo’, ‘নবগঙ্গা টিভি’, ‘Daily Jhenaidah’, ‘ঝিনেদার ব্রেকিং’ Khandokar Sabbir, Md Masrafi Alam Prappo সহ এবং কয়েকটি ব্যক্তিগত আইডি উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু ভিডিও অপসারণ করা গেলেও এখনও বিভিন্ন মাধ্যমে তা প্রচারিত হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সামসুল আরেফিন বলেন, গতকাল এধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ব্যাপারে শুনেছি। আজ শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে এখনো অফিসে যেতে পারিনি। থানায় যেয়ে এজাহার দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :