আয়ের সাথে ব্যয়ের এই চরম অসঙ্গতি সামাজিক অস্থিরতাও বাড়িয়ে তুলছে

মোঃ আল শাহারিয়া সুইট , ডিআইইউ সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি বর্তমানে দেশের অন্যতম আলোচিত ও উদ্বেগজনক বিষয়। এটি শুধু একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানকে সরাসরি প্রভাবিত করে এমন একটি গুরুতর সামাজিক সংকট। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য জীবন চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে মতামত জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বর্তমানে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম ‘বাজার’।

সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত প্রতিটি মুহূর্তেই সাধারণ মানুষকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি। চাল, ডাল, তেল আর লবণের মতো অতি প্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসের দাম এখন সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। কয়েক মাস ধরে বাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তাতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ, তাদের জীবনযাত্রার মান এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার দোহাই দিয়ে অনেক পণ্যের দাম বাড়ানো হলেও, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে, তখন তার প্রভাব দেশের বাজারে খুব একটা লক্ষ্য করা যায় না। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে শক্তিশালী ‘বাজার সিন্ডিকেট’। গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুদদারের হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ থাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবহন পথে চাঁদাবাজির কারণে পণ্যমূল্য কয়েক ধাপ বেড়ে ভোক্তার কাছে পৌঁছাচ্ছে।

​পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক পরিবার এখন তাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকে মাছ-মাংস বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছে। আয়ের সাথে ব্যয়ের এই চরম অসঙ্গতি সামাজিক অস্থিরতাও বাড়িয়ে তুলছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা শুধুমাত্র লোকদেখানো বাজার তদারকি নয়, বরং মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সরবরাহ চেইন নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি বিপণন সংস্থাগুলোর (টিসিবি) তৎপরতা আরও বাড়ানো এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করা গেলে এই সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা এখন কোনো বিলাসিতা নয়, বরং সাধারণ মানুষের টিকে থাকার লড়াই। প্রশাসন যদি এখনই কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে এই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

মোঃ জহুরুল ইসলাম

বিবিএ

বর্তমানে বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, চিনি, ডিম, মাছ, মাংসসহ প্রায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার, চরম আর্থিক চাপে পড়েছে।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা অন্যতম। এছাড়া কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিও বাজার অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

বর্তমান সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। টিসিবির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রি, বাজার মনিটরিং জোরদার, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। অনেক পরিবারকে তাদের দৈনন্দিন খরচ কমাতে হচ্ছে এবং জীবনযাত্রার মানেও প্রভাব পড়ছে। 

সার্বিকভাবে বলা যায়, বর্তমান সরকারের জন্য বাজার স্থিতিশীল রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কার্যকর তদারকি, সুষ্ঠু সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।

এশা ইসলাম

বিবিএ

সকালবেলার বাজারে ঢুকলেই যেন এক অদৃশ্য ভার এসে চেপে বসে সাধারণ মানুষের কাঁধে। হাতে বাজারের ব্যাগ, চোখে হিসাব-নিকাশ, আর মনে একটাই প্রশ্ন “আজ কতটুকু কেনা যাবে?” সম্প্রতি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে এই প্রশ্ন এখন বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের প্রতিদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

চাল, ডাল, চিনি, তেল, পেঁয়াজ, ডিম যে তালিকাটি একসময় ছিল সাধারণ জীবনের অপরিহার্য অংশ, আজ সেটিই অনেকের কাছে বিলাসিতার প্রতীকে রূপ নিচ্ছে। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত সপ্তাহের দামের সঙ্গে এই সপ্তাহের দামের কোনো সামঞ্জস্য নেই। নিত্যপণ্যের বাজারে যেন নতুন করে আগুন লেগেছে। বিশেষ করে পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এখন সরাসরি পণ্যের দামে প্রতিফলিত হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা যায় কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও, বেশ কিছু পণ্যের দাম ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে এখন দৃশ্যমান সংকট তৈরি করেছে। সম্প্রতি ডিজেলের লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধির প্রভাব বাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ট্রাক ভাড়া দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে যার সম্পূর্ণ চাপ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার পকেটেই গিয়ে পড়ছে। ব্যবসায়ীরা নানা কারণ দেখালেও সাধারণ ক্রেতার কাছে এর প্রভাব একটাই ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং জীবনযাত্রার মানে সরাসরি চাপ।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পোলাওর চালে। মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিনের ব্যবধানে প্যাকেটজাত পোলাওর চালের কেজিতে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে এখন ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা পোলাওর চালও পিছিয়ে নেই কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায় উঠেছে। ব্যবসায়ীরাও এই বৃদ্ধিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলেই স্বীকার করছেন।

ডিমের বাজারেও চাপ তীব্র। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে এখন প্রায় ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬-এ দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮.৭১ শতাংশ, যেখানে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতি ৮.২৪ শতাংশ। এই সংখ্যা হয়তো কাগজে ছোট, কিন্তু বাস্তবে একজন দিনমজুরের কাছে এর অর্থ হলো একবেলার খাবার কমে যাওয়া। একজন মধ্যবিত্তের কাছে স্বপ্নের খরচ কেটে ফেলা।

এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে একাধিক কাঠামোগত কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার মান হ্রাস, পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মজুতদারি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তবে সংকটের মধ্যেও জীবন থেমে নেই। মানুষ মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে কেউ খাবারের পরিমাণ কমাচ্ছে, কেউ বিকল্প খুঁজছে, আবার কেউ অতিরিক্ত আয়ের পথ খুঁজছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় এই মানিয়ে নেওয়ার সীমা কোথায়?

শেষ পর্যন্ত, বাজারের ব্যাগটি যেন শুধু পণ্য বহন করে না; এটি বহন করে মানুষের আশা, সংগ্রাম এবং টিকে থাকার গল্প। আর সেই গল্পকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্র, বাজার ও সমাজের সবার।

মাহমুদুল হাসান মুন্না

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

সম্প্রতি বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনে একটি বড় চাপ তৈরি করেছে। আমার মতে, এই পরিস্থিতি এখন শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে অনেকটা কঠিন করে তুলেছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ডিম, পেঁয়াজ, সবজি ও মাংসসহ মৌলিক খাদ্যপণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে। অনেক পরিবার তাদের স্বাভাবিক খাদ্য তালিকা কমাতে বাধ্য হচ্ছে, যা সত্যিই চিন্তার বিষয়।

আমার দৃষ্টিতে, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। যেমন—আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, ডলারের মূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া। তবে শুধু বাইরের কারণ নয়, দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, কিছু ক্ষেত্রে মজুতদারি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের ঘাটতিও এই পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের অস্থিরতা ও লোডশেডিংও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলছে। এর ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, খরচ বাড়ছে এবং পরোক্ষভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও বিঘ্ন ঘটছে। বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রতিবেদনেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

এর পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যবস্থায়ও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় তেল সরবরাহ কম থাকায় যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, যার ফলে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যায় এবং বাজারে এর প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তির মধ্যে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াতের সময় অতিরিক্ত ভাড়া, যানজট এবং অনিয়মিত পরিবহন ব্যবস্থার কারণে সমস্যায় পড়ে, যা তাদের পড়াশোনার ওপরও প্রভাব ফেলে।

আমার মতে, শুধু বাজারে অভিযান বা মনিটরিং করলেই এই সমস্যার সমাধান হবে না। এর জন্য দরকার একটি দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর পরিকল্পনা। যেমন—সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করা, মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ করে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা। পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থাকেও আরও সাশ্রয়ী ও নিয়মিত করা প্রয়োজন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং শিক্ষার্থীরা। তাই তাদের স্বস্তির জন্য বাজার ও সেবা খাতগুলোকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি।

সব মিলিয়ে বলতে গেলে, দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট আমাদের দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমার মনে হয়, দ্রুত ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বেড়ে যাবে।

খাদিজাতুল কোবরা নিঝুম

ইংরেজি বিভাগ

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। চাল, ডাল, তেলসহ প্রতিটি নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা যখন সাধারণ মানুষের চোখেমুখে ক্ষুধার যন্ত্রণা দেখি, তখন প্রশ্ন জাগে—সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন আসলে কী করছে? দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের বারবার দেওয়া আশ্বাস এখন সাধারণ মানুষের কাছে 'প্রহসন' ছাড়া আর কিছুই নয়।

​বাজারের এই অস্থিরতার পেছনে প্রধান কারণ হলো প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা এবং অসাধু সিন্ডিকেটের সাথে কিছু প্রভাবশালী মহলের গোপন আঁতাত। সরকার বারবার সিন্ডিকেট ভাঙার কথা বললেও বাস্তবে বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই। বরং দেখা যাচ্ছে, সরকারের নাকের ডগায় বসে একদল মজুতদার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনগণের পকেট কাটছে। দায়সারা বাজার মনিটরিং আর লোকদেখানো কিছু অভিযান দিয়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়।

পণ্যমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো পরিবহন সেক্টরে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। গ্রাম থেকে পণ্যবাহী একটি ট্রাক যখন শহরের বাজারে পৌঁছায়, তখন কয়েক ধাপে তাকে মোটা অংকের চাঁদা গুনতে হয়। রাষ্ট্র ও প্রশাসন এই প্রকাশ্য চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এই চাঁদাবাজির প্রতিটি টাকা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতার পকেট থেকেই যাচ্ছে। প্রশাসন যদি এই চাঁদাবাজি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে না পারে, তবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা কোনোদিনই সম্ভব হবে না।

​বৈশ্বিক মন্দা বা আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে সরকার নিজের দায় এড়াতে পারে না। যখন প্রতিবেশী দেশগুলো কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, তখন আমাদের দেশে কেন প্রতিদিন দাম বাড়বে? সময়মতো আমদানিতে অনীহা, নীতি-নির্ধারণে দীর্ঘসূত্রতা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবই আজকের এই সংকটের মূল কারণ। সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা, অনেকের ঘরেই উনুন জ্বলছে না। এই জনরোষ যদি আরও বাড়ে, তবে তার দায়ভার পুরোপুরি সরকারকেই নিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসাবে ​আমাদের দাবি হলো :

১. শুধুমাত্র জরিমানা নয়, অসাধু সিন্ডিকেট ও মজুতদারদের সরাসরি জেলে পাঠাতে হবে।

২. পণ্য পরিবহনে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক—সকল প্রকার চাঁদাবাজি শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে।

৩. টিসিবি ও ওএমএস কার্যক্রমের পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে হবে।

৪. বাজার তদারকি সংস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে এবং তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

এম এস ফাহাদ

ইংরেজি বিভাগ

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

বাজার মনিটরিং জোরদার করা, মজুদদারি রোধ করা এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করার মাধ্যমে এ সমস্যা কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব। সরকারের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই একটি স্থিতিশীল ও সহনশীল বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

 

 

 

Advertisement

Link copied!