ইবিতে বৈষম্যবিরোধী নেতার মাদক সেবনের ছবি ভাইরাল

ওয়াসিফ আল আবরার , ইবি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশ্বির আমিনের মাদক সেবনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে তীব্র সমালোচনা চলছে। যদিও অভিযুক্ত নেতা ছবিটিকে 'অভিনয়' বলে দাবি করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, ছবিতে দৃশ্যমান মাদক দ্রব্যটি ইয়াবা অথবা ট্যাপেন্ডাল ট্যাবলেট হতে পারে।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে ইবির নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা মেহেদী হাসান হাফিজ এই ছবি শেয়ার করেন। ছবিতে দেখা যায়, মুবাশ্বির আমিন সিগারেট জাতীয় একটি মাদক সেবনের দ্রব্য মুখে ধরে আছেন, হাতে একটি লাইটার এবং অপর হাতে একটি কাগজ। অনেকেই এটিকে ইয়াবা সেবনের ছবি বলে অভিযোগ করেছেন।

ছবির ক্যাপশনে মেহেদী হাসান হাফিজ লেখেন, "ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের এক এজেন্ট সমন্বয়ক মুবাশ্বির। ও আমার ইনবক্সে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ওর বাপ আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। মুবাশ্বির তুই তোর বাপের কাছে আমার নাম বলিস যেয়ে, তারও কোনো বাপ থাকলে শৈলকূপার সীমানায় এসে হুমকি দিতে। তুই বেঁচে থাকিস ১৭৫ একরে তোর আশায় লাগবে বাপসহ তোর কৈফিয়ত আমি মেইন গেইট মুরালের সামনে বসে নিবো। তোর দিয়ে জাস্ট ট্রেলার দিলাম। সকল অন্যায়ের বিচার হবে ১৭৫ একরে ইনশাআল্লাহ।"

ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার মুখে পড়েন এই নেতা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মতো সংগঠনের একজন নেতার এমন কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লজ্জিত। একইসাথে, তার সাথে ক্যাম্পাসে মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মুবাশ্বির আমিন বলেন, "ছবিটি ২০২৩ সালের শেষ সময়ের, যখন আমি সেকেন্ড ইয়ারে পড়তাম এবং শহীদ জিয়া হলের এক বড় ভাইয়ের রুমে গিয়েছিলাম। ওটা ছিল র‍্যাগিং কালচার। এটা ইয়াবা বা এই জাতীয় কোনো দ্রব্য না, এটা ছিল অভিনয়। অভিনয়ের সেই ছবিকে ব্যবহার করেই মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানোর মাধ্যমে একটি পক্ষ আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। আগেও আমাকে এসব ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে, আমি এতদিন সময় পাইনি, সামনে প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দেবো। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট; আমি কখনো এসবের সাথে জড়িত ছিলাম না।"

এ ব্যাপারে ইবির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক এস এম সুইট বলেন, "এ ব্যাপারে আমি এখনো অবগত নই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেউ এ ধরণের কাজে জড়িত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একে খাটো করে দেখার কিছু নেই। আমরা এমন কাউকে কখনো আশ্রয় প্রশ্রয় দেবো না। তবে অভিযোগটি প্রমাণিত হতে হবে, উপযুক্ত প্রমাণ থাকতে হবে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, "ক্যাম্পাসে মাদক বা নেশাজাত দ্রব্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত আছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের বা এ ধরণের কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

Link copied!