দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন এখন চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি চোরচক্রের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। একের পর এক স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।
মাত্র একদিনের ব্যবধানে একই কৌশলে দুই নারীর গলার স্বর্ণের চেইন খোয়া যাওয়ার ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সিসিটিভির কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে হাসপাতালের সরকারি ঔষধ বিতরণ কাউন্টারে চিকিৎসা নিতে এসে চোরচক্রের খপ্পরে পড়েন দাগনভূঞা পৌরসভার বাসিন্দা নার্গিস আক্তার। অসুস্থ চার বছরের শিশুকে ডাক্তার দেখানোর পর তিনি সরকারি ঔষধ সংগ্রহের জন্য কাউন্টারের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। এসময় মধ্যম বয়সী এক অপরিচিত নারী এসে তার খুব কাছে দাঁড়ান। বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় নার্গিস আক্তার প্রতিবাদ করলে ওই নারী কিছুক্ষণ পর পিছনে গিয়ে অসুস্থ হওয়ার অভিনয় করেন। একপর্যায়ে “মাথা ঘুরছে” বলে নার্গিস আক্তারের শরীরের উপর হেলে পড়েন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, “আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন নেই। মুহূর্তের মধ্যেই নারীটি ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।”চুরি হওয়া চেইনের ওজন প্রায় চার আনা বলে জানা গেছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।
ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার দুপুর ১২টার দিকে একই হাসপাতালের একই স্থানে আরেকটি চুরির ঘটনা ঘটে। চিকিৎসা নিতে আসা এক বৃদ্ধ নারীর গলা থেকে প্রায় আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন একই কৌশলে হাতিয়ে নেয় সংঘবদ্ধ চক্রটি। পরপর দুইদিন একই ধরনের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী ও স্বজনদের মাঝে।
ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও অভিযুক্তরা দ্রুত কৌশলে সটকে পড়ে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র মৌখিক সান্ত্বনা ছাড়া বাস্তব কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। দাগনভূঞা থানার এসআই মোবারক হোসেন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করা গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো— হাসপাতালে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও ফুটেজে ঘটনার স্পষ্ট কোনো দৃশ্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযুক্তরা মুখোশ পরিহিত থাকায় তাদের শনাক্ত করতে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— যদি সিসিটিভি থেকেও কোনো তথ্য না পাওয়া যায়, তাহলে এসব ক্যামেরার কার্যকারিতা কোথায়? চিকিৎসা নিতে আসা মানুষদের নিরাপত্তার দায়িত্বই বা কে নেবে?
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও একই কৌশলে হাসপাতাল এলাকায় একাধিক ব্যক্তি চোরচক্রের শিকার হয়েছেন। কিন্তু এত ঘটনার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা যায়নি। ফলে দিন দিন সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে স্বাস্থ্যসেবার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের উপর।
সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার, আধুনিক সিসিটিভি ব্যবস্থা স্থাপন এবং সংঘবদ্ধ চোরচক্র শনাক্তে কার্যকর অভিযান পরিচালনা না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :