কুবি শিক্ষক অপহরণ মামলায় গ্রেফতার এক, গাড়ি জব্দ

নুরুল হাকিম বাপ্পী , কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক অপহরণ মামলায় সাহাবুল শেখ (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ। এ সময় অপহরণে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো গ-৩৯১৬৮৬ নম্বরের একটি গাড়িও জব্দ করা হয়েছে।

‎‎শনিবার (২৩ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম রাকিব। 

‎পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতভর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় অপহরণে ব্যবহৃত একটি গাড়িও জব্দ করেন পুলিশ। 

‎‎গত ৪ মার্চ ঢাকায় যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক আবদুর রাজ্জাক সোহেল। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তাকে হত্যাচেষ্টার পাশাপাশি তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পরদিন ৫ মার্চ ভুক্তভোগী শিক্ষক সদর দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

‎‎ঘটনার দীর্ঘ সময় পরও মাত্র একজনকে গ্রেফতার করতে পারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত অন্য আসামিদের এখনো শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে না পারা তদন্তের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে মনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

‎‎এদিকে, সম্প্রতি কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও কুমিল্লার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একের পর এক গুরুতর অপরাধের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।

‎‎ভুক্তভোগী শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক সোহেল বলেন, “ঘটনার এতদিন পর একজন গ্রেফতার হলেও মূল পরিকল্পনাকারী ও জড়িত অন্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।"

‎কোটবাড়ি পুলিশ ফারির এসআই টিটু কুমার নাথ বলেন, "ভুক্তভোগী শিক্ষক একটা মামলা করেছিলো। সেই মামলার তদন্ত সাপেক্ষে সন্দেহজনকভাবে আমরা একজনকে আটক করেছি। তাকে আমরা কোর্টে চালান করবো। মামলার আসামী আরও কয়েকজন আছে। তাদেরকেও ধরার চেষ্টা চলছে।"

‎‎এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “অপহরণের অভিযোগে গত পরশু রাতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে গতকাল সকালে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় আরও যারা জড়িত রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।”

 

Link copied!