দেশজুড়ে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় হিটস্ট্রোকের আশঙ্কাও বেড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, সামান্য সচেতনতা এবং দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনলেই এই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা জানান, শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে হিটস্ট্রোক দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় তীব্র রোদে অবস্থান, পর্যাপ্ত পানি পান না করা এবং অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম।
হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে যা করবেন
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
গরমে শরীর থেকে দ্রুত পানি বের হয়ে যায়। তাই তৃষ্ণা অনুভব না হলেও নিয়মিত পানি পান করা প্রয়োজন, যাতে শরীর পানিশূন্য না হয়ে পড়ে।
দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলুন
দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সূর্যের তাপ সবচেয়ে তীব্র থাকে। এই সময়ে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়াই ভালো।
হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন
সুতির, ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের পোশাক শরীরকে তুলনামূলক ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। ভারী ও গাঢ় রঙের পোশাক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ছাতা, টুপি ও সানগ্লাস ব্যবহার করুন
রোদে বের হলে ছাতা, ক্যাপ বা সানগ্লাস ব্যবহার করলে সরাসরি সূর্যের তাপ ও আলো থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়।
অতিরিক্ত পরিশ্রম থেকে বিরত থাকুন
তীব্র গরমের মধ্যে ভারী কাজ বা দীর্ঘ সময় ব্যায়াম শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তাই প্রয়োজন ছাড়া এমন কাজ না করাই উত্তম।
শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের দিকে বিশেষ নজর দিন
হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি থাকেন শিশু, বয়স্ক ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা। তাদের পর্যাপ্ত পানি পান এবং শীতল পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
যতটা সম্ভব ঠান্ডা পরিবেশে থাকুন
ফ্যান, এয়ার কুলার বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হোন
চিকিৎসকদের মতে, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা, বমিভাব কিংবা অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে সচেতনতা ও সময়মতো সতর্কতাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা।
আপনার মতামত লিখুন :