পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন সময় পার করছেন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরাজয়ের ধাক্কায় তিনি শুধু মুখ্যমন্ত্রীর পদই হারাননি, বরং দলের ভেতরে নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নানা প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অনিশ্চয়তার এমন পরিস্থিতিতেই আগামী ৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে অংশ নিতে রোববার (৭ জুন) দিল্লি পৌঁছেছেন তৃণমূল প্রধান।
দিল্লি সফরের আগে কলকাতা বিমানবন্দরে মমতার সঙ্গে দেখা যায় দলের শীর্ষ নেতা দোলা সেন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরও আগে জরুরি ভিত্তিতে রাজধানীতে পৌঁছান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও মমতার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কাছে ভরাডুবির পর এটিই হতে যাচ্ছে ইন্ডিয়া জোটের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বৈঠকে আসন্ন বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচন, জোটের শরিকদের মধ্যে সমন্বয়, জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী শিবিরের ভবিষ্যৎ কৌশল এবং সংসদীয় কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।
ক্ষমতায় থাকাকালীন জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার অবস্থান কতটা শক্তিশালী রয়েছে এবং তিনি আবারও বিরোধী রাজনীতির অন্যতম মুখ হয়ে উঠতে পারেন কি না, সে বিষয়েও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
জোটে বাড়ছে মতবিরোধ
মমতা বৈঠকে যোগ দিলেও ইন্ডিয়া জোটের অভ্যন্তরে মতবিরোধ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের পর কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তুলে বৈঠক বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে ডিএমকে। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুতে জোসেফ বিজয়ের রাজনৈতিক দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম’-কে সরকার গঠনে সমর্থন দিয়েছে কংগ্রেস, যা ডিএমকের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, কেরল বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বামপন্থীদের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত অপপ্রচারের’ অভিযোগ তুলেছে সিপিআই(এম)। যদিও ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও দলটি বৈঠক বর্জন করছে না। সোমবারের বৈঠকে তাদের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন সংসদ সদস্য জন ব্রিট্টাস।
মমতার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী পরাজয়ের পর জাতীয় রাজনীতিতে নিজের আগের প্রভাব কতটা পুনরুদ্ধার করতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। একই সঙ্গে শরিক দলগুলোর মধ্যে বাড়তে থাকা মতবিরোধের মুখে ইন্ডিয়া জোট আদৌ ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবে কি না, সেই উত্তরও খুঁজবে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। আগামী দিনের বিরোধী রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে তাই এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :