প্রশ্নপত্র ফাঁসে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ কোটি রুপি জরিমানার বিল অনুমোদন ভারতের মন্ত্রিসভায়

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:০২ এএম

প্রশ্নপত্র ফাঁসে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ কোটি রুপি জরিমানার বিল অনুমোদন ভারতের মন্ত্রিসভায়

ফাইল ফটো

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি সংশোধনী বিলের খসড়া অনুমোদন করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে শুক্রবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিলটি অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অপরাধে দোষী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে।

এই সংশোধনের মাধ্যমে পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) আইন, ২০২৪-এ পরিবর্তন আনা হবে। বর্তমানে এ আইনে ব্যক্তি পর্যায়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অপরাধে তিন থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সংঘবদ্ধভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ন্যূনতম ১ কোটি রুপি জরিমানার বিধান রয়েছে।

সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া ভিডিও বার্তায় যে বিলের কথা উল্লেখ করেছিলেন, সেটিই সোমবার লোকসভায় উত্থাপন করা হবে।

সরকারের দাবি, নতুন বিলের উদ্দেশ্য হলো অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত চক্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের অযথা হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও এতে নিশ্চিত করা হবে।

এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসসংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। এসব আদালতকে তিন মাসের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করে রায় দেওয়ার আইনি ভিত্তি দেওয়া হতে পারে।

সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আনা এই বিল পাসে অযথা বিলম্ব হওয়া উচিত নয়। তিনি বিরোধী দলগুলোর প্রতি সংসদের কার্যক্রম সচল রেখে বিলটি পাসে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

তবে বিরোধী দলগুলো জানিয়ে দিয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলতে দেবে না।

এদিকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উদ্দেশ করে বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত, শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরই শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বিরোধীরা।

Link copied!