শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় বিরোধীরা, ভারতের সংসদে অচলাবস্থা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় বিরোধীরা, ভারতের সংসদে অচলাবস্থা

ফাইল ফটো

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে ভারতের বিরোধী দলগুলো। এ কারণে বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম সপ্তাহজুড়ে কার্যত অচল ছিল লোকসভা ও রাজ্যসভা। সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে অচলাবস্থা নিরসনেরও কোনো ইঙ্গিত মেলেনি।

অধিবেশনের এখনও ১৪ কার্যদিবস বাকি থাকলেও আগামী সপ্তাহের কৌশল নির্ধারণে সোমবার বৈঠকে বসছে বিরোধী জোট। তাদের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ না করা পর্যন্ত অবস্থান থেকে সরে আসার সম্ভাবনা নেই। এদিকে সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নতুন আইন সংসদে উত্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে লেখেন, আজ সংসদে আসার আগে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করুন। প্রথমে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান এবং শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ দমাতে লাঠিচার্জ ও পেলেট গান ব্যবহারের নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন। এরপর শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় আমরা প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে নতুন বিল আনার ঘোষণা দেওয়ার পর খার্গে এ মন্তব্য করেন।

সরকার জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আলোচনার অচলাবস্থা দূর করতে বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার লোকসভায় প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী বিল উত্থাপন করা হবে। এতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সংশ্লিষ্ট অপরাধে আরও কঠোর শাস্তি ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

এক জ্যেষ্ঠ বিজেপি সংসদ সদস্য বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ দূর করার জন্যই বিলটি আনা হচ্ছে। আমরা আশা করি, বিরোধীরা এটি পাসে সহযোগিতা করবে।

সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, সংসদের অচলাবস্থা নিরসনে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলগুলো প্রথমে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আলোচনা চাইলেও এখন আইন প্রণয়নের কাজও এগোতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শুক্রবার রাজ্যসভায় ‘বন্দে মাতরম’ বিল নিয়ে আলোচনা শুরুর উদ্যোগও ব্যর্থ হয়। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আগে কোনো আইনগত কার্যক্রম চলতে দেবে না বলে জানিয়ে দেন বিরোধী সদস্যরা।

লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর আগে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে।

রাহুলের ভাষায়, শিক্ষার্থীদের তিনটি দাবি রয়েছে— এক, দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষামন্ত্রীকে সরাতে হবে; দুই, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে; তিন, প্রধানমন্ত্রীকে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করা পর্যন্ত কোনো আলোচনা বা সংলাপে আমরা যাব না।

প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিট পরীক্ষায় অনিয়ম এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে টানাপোড়েনের জেরে ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম সপ্তাহ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

Link copied!