নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জাতীয় পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষায় বারবার অনিয়ম এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কেন্দ্রের ভূমিকার প্রতিবাদে ভারতের তেলেঙ্গানাজুড়ে ডাকা বন্ধে অচল হয়ে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। রাজ্যজুড়ে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ব্যাহত হয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।
বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের সমর্থনে ডাকা এ কর্মসূচিতে অংশ নেয় ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (এনএসইউআই), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই), অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এআইএসএফ), অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা), ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (ডিওয়াইএফআই), স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন (এসআইও)সহ একাধিক সংগঠন।
বিক্ষোভকারীরা দিল্লিতে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জেরও নিন্দা জানান।
এআইএসএফের তেলেঙ্গানা শাখার সম্পাদক পুত্তা লক্ষ্মণ বলেন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং একের পর এক পরীক্ষা আয়োজনে ব্যর্থতার নৈতিক দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে।
তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং দেশের পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
এনএসইউআইয়ের রাজ্য সভাপতি যাদাভল্লি ভেঙ্কটস্বামী বলেন, রাজ্যজুড়ে শান্তিপূর্ণভাবে বন্ধ পালিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নিট বিতর্কের জেরে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বন্ধের প্রভাবে হায়দরাবাদসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। তেলেঙ্গানা রেকগনাইজড প্রাইভেট স্কুলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস. এন. রেড্ডি জানান, গ্রেটার হায়দরাবাদ এলাকায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার বেসরকারি স্কুলের অধিকাংশই বন্ধ ছিল। বেসরকারি জুনিয়র কলেজ ও ডিগ্রি কলেজেও ক্লাস স্থগিত করা হয়।
এছাড়া ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জওহরলাল নেহরু টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (জেএনটিইউ) এবং কালোজি নারায়ণ রাও ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস শুক্রবারের নির্ধারিত সব পরীক্ষা স্থগিত করেছে। পরে নতুন সূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, আন্দোলনের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থনও দেখা গেছে। ভারত রাষ্ট্র সমিতি (বিআরএস) ও কংগ্রেস পৃথক কর্মসূচি পালন করে।
বিআরএসের কার্যকরী সভাপতি কে. টি. রামা রাও (কেটিআর) বলেন, শিক্ষার্থীরা শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁস নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বছরে দুই কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায়ও ক্ষুব্ধ।
তিনি ২০ জুলাই দিল্লির বিক্ষোভে নারীসহ আন্দোলনকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ এনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
অন্যদিকে, কংগ্রেসও হায়দরাবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। দলটির রাজ্য কার্যকরী সভাপতি এম. অঞ্জন কুমার যাদবের নেতৃত্বে মিছিল ধর্না চকের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটকে দেয় এবং পরে কয়েকজনকে আটক করে।

আপনার মতামত লিখুন :