বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার পর পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই সংঘটিত এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত সক্রিয় হয়ে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে, তবে হামলার আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।
এর আগে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরায়েলি হামলার পর কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। সম্ভাব্য আরও হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েলজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত হওয়ার পর উত্তর ইসরায়েলের হাইফাসহ বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা হাইফার কাছে অবস্থিত রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। আইআরজিসির মতে, দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের উপশহরগুলোতে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “আজ রাতেই তেহরানকে জ্বলতে হবে।” তার এই মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :