নওগাঁয় ১৩ বছরের স্কুলছাত্রী অপহরণ: উদ্ধারের দাবিতে মায়ের সংবাদ সম্মেলন

নাজমুল হক , নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী অপহরণের অভিযোগ তুলে মেয়েকে দ্রুত উদ্ধার ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার মা।

রোববার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় বদলগাছী চারমাথা এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার কয়া ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা মোছা. নেসপাতি বেগম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ৭ জুন সকাল আনুমানিক ৭টায় তার ছোট মেয়ে নাছরিন আক্তার প্রতিদিনের মতো কোচিং ও স্কুলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন, ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলা গ্রামের মগলের গোল পাকা রাস্তা এলাকা থেকে একটি সিএনজিযোগে নাছরিনকে অপহরণ করে ভান্ডারপুরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী তাদের প্রতিবেশী মো. বেলাল হোসেনের ছেলে মো. রায়হান হোসেন (২৫)। এ ঘটনায় রায়হানকে সহযোগিতা করেছেন বলে মো. বেলাল হোসেন (৫২), মোছা. শিরিন আক্তার (৪৫) ও মো. সুমন হোসেন (২৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নেসপাতি বেগম দাবি করেন, মেয়ের সন্ধান জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সহযোগিতা না করে উল্টো ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন। বর্তমানে অভিযুক্ত রায়হান ও নাবালিকা নাছরিন অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করছেন। এতে মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশ প্রশাসন, পুলিশ সুপার এবং বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) প্রতি দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, নাবালিকাকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নাছরিনের পিতা মো. হিটলার, বড় ভাই মো. নাসিব হোসেন, স্থানীয় সাবেক মেম্বার সাইফুল ইসলাম ও আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য জিল্লুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দ্রুত মেয়েটিকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। ভিকটিমকে উদ্ধার এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।”

 

Link copied!