অনলাইন জুয়া দমনে আসছে নতুন আইন

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬, ০৯:১৮ এএম

সরকার অনলাইন ও অফলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে নতুন ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে আইনের খসড়াকে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে পাবলিক পরীক্ষার অনিয়ম প্রতিরোধ, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের খসড়াও অনুমোদন পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার দশম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর উপস্থাপিত প্রস্তাবনা পর্যালোচনার পর মন্ত্রিসভা খসড়াগুলোর নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে অনলাইনভিত্তিক জুয়া, বাজি ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে জনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রতিরোধে ১৮৬৭ সালের পুরোনো ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’-এর পরিবর্তে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

খসড়ায় অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, বেটিং, বুকমেকার, টোটালাইজেটর, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ বিভিন্ন বিষয়কে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় ধরনের শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে।

এদিকে, ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। সংশোধিত আইনে প্রশ্নফাঁস, নকল, জাল সনদ তৈরি এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকা হ্যাকিং কিংবা অবৈধভাবে পরিবর্তন করাকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ হিসেবে অপরাধ গণ্য করা হবে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সংঘবদ্ধ পরীক্ষাজালিয়াতি ও জালিয়াতি চক্র পরিচালনার বিষয়টিকেও কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভা ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা ২০০১ সালের ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ আইনের পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, কৃষি, জীববিজ্ঞান, ব্যবসা প্রশাসন, আইন, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।

অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশোধনীতে মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার স্পেসে সংঘটিত মাদকসংক্রান্ত অপরাধ মোকাবিলা, সীমান্ত এলাকায় সমন্বিত অভিযান পরিচালনা এবং মাদক শনাক্তে ডগ স্কোয়াড গঠনের উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

সরকার জানিয়েছে, অনুমোদিত এসব খসড়া আইন এখন আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং শেষে পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য পাঠানো হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আইনগুলো কার্যকর করা হবে।

Link copied!