বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘দিয়াওইউতাই’ থেকে মোটর শোভাযাত্রায় গ্রেট হলে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান চীনের সরকারপ্রধান।
দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পরিচয়পর্ব শেষে লালগালিচা সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে তারেক রহমানকে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। সেখানে চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে। এ সময় বাংলাদেশ ও চীনের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয় এবং প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানিয়ে তোপধ্বনি দেওয়া হয়।
পরে দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদাপূর্ণ এই আয়োজনে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন দেখা যায়।
এর আগে গত ২১ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সফরে মালয়েশিয়া যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকারপ্রধান হিসেবে এটি ছিল তার প্রথম সরকারি বিদেশ সফর। মালয়েশিয়ায় কর্মসূচি শেষ করে তিনি গত সোমবার রাতে চীনের দালিয়ানে পৌঁছান এবং সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন। দুই দিনের কর্মসূচি শেষে বুধবার বিকেলে উচ্চগতির বুলেট ট্রেনে দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ে আসেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হলো গ্রেট হলে বাংলাদেশ ও চীনের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর। তবে চীনের সঙ্গে তার পরিচয় নতুন নয়। এর আগে ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে তিনি চীন সফর করেছিলেন। সে সময়ও গ্রেট হলে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি ছিল।
সূত্র: বাসস
আপনার মতামত লিখুন :