খুবির ৩৯ শিক্ষক শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে গিয়ে আর ফেরেননি

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম

মো: ইব্রাহিম খলিল, খুবি প্রতিনিধি: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ৩৪ বছরের ইতিহাসে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়েও কর্মস্থলে ফিরে আসেননি ৩৯ জন শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নির্ধারিত ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন, আর বাকিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের দুই বছর পর একজন শিক্ষক বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষা ছুটির আবেদন করতে পারেন। মাস্টার্স বা এমফিল ডিগ্রির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন বছর এবং পিএইচডির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বেতনসহ শিক্ষা ছুটি ভোগের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে আরও দুই বছর ছুটি নেওয়া গেলেও ওই সময়ে কোনো বেতন-ভাতা দেওয়া হয় না। অর্থাৎ সর্বোচ্চ সাত বছর পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে কর্মস্থলে যোগদান করতে হয়, অন্যথায় চাকরি বাতিলের বিধান রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পিএইচডি, এমএসসি (মাস্টার্স) ও পোস্টডক্টরাল গবেষণার জন্য বিদেশে যাওয়া এসব শিক্ষকের মধ্যে অনেকেই নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কর্মস্থলে ফেরেননি। আবার সাত থেকে আটজন শিক্ষক ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যই শিক্ষা ছুটি দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময় শেষে কর্মস্থলে যোগদান না করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের করণীয় সীমিত হয়ে পড়ে।

তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া পদত্যাগকারী শিক্ষকদের কাছেও প্রাপ্ত অর্থ ফেরতের জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং আরও ১১ থেকে ১২ জন শিক্ষককে কর্মস্থলে ফিরে আসার জন্য লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী বলেন, অডিট আপত্তি অনুযায়ী এসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে কয়েকজন শিক্ষক আংশিক অর্থ পরিশোধ করেছেন, কেউ কেউ কিস্তিতে পরিশোধের আবেদন করেছেন এবং কয়েকজন সময় চেয়েছেন।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ খান বলেন, শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে আর দেশে না ফেরার প্রবণতা আমাদের দেশে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এটি একদিকে রাষ্ট্রের ক্ষতি, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, এসব পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না, ফলে শিক্ষক সংকট তৈরি হয় এবং শিক্ষার্থীরা এর নেতিবাচক প্রভাব ভোগ করে।

Advertisement

Link copied!