কেশবপুরে চিংড়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন

হারুনার রশীদ বুলবুল , কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

যশোরের কেশবপুর উপজেলার ২নং সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের চিংড়া ধর্মপুর দারুস সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। কমিটি জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আজ ৩০ জুন (মঙ্গলবার) সকালে মাদ্রাসার সামনে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন প্রতিষ্ঠাতা, দাতা, অভিভাবক ও সাধারণ এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে বক্তারা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী কায়দায় মাদ্রাসা পরিচালনা এবং রাতের আঁধারে পকেট গভর্নিং কমিটি গঠনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাঁর তাৎক্ষণিক অপসারণ দাবি করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চিংড়া ধর্মপুর দারুছ সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল  মাওলানা সিরাজুল ইসলাম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে, রাতের আঁধারে অবৈধভাবে নিজের পছন্দের লোকদের দিয়ে কমিটি তৈরি করেন  ।

পরবর্তীতে সাধারণ সদস্য, জমিদাতা ও অভিভাবকদের অন্ধকারে রেখে গোপনে একটি পকেট গভর্নিং কমিটি গঠন করে অনুমোদনের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠান।এই খবর ছড়িয়ে পড়লে গত ২৮ জুন (রোববার) সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সাথে অধ্যক্ষের পক্ষের লোকজনের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা এই মানববন্ধনের ডাক দেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান রাহাজউদ্দিন, জমিদাতা আব্দুল হামিদ, অভিভাবক আশুয়া খাতুন, রিমা খাতুন ও কবিরুল ইসলামসহ আরও অনেকে। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান রাহাজউদ্দিনবলেন,যে মাদ্রাসাকে আমরা নিজেদের রক্ত-ঘাম দিয়ে আগলে রেখেছি, সেখানে অধ্যক্ষ নিজের একক আধিপত্য বজায় রাখতে গোপনে পকেট কমিটি গঠন করেছেন। আমরা এই অবৈধ কমিটি মানি না এবং দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করছি।

জমিদাতা আব্দুল হামিদ তাঁর বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়াতে আমরা পৈতৃক জমি দান করেছি, কোনো ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়। আজ আমাদের বাদ দিয়ে রাতের আঁধারে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এই জালিয়াতির বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন ছাড়ব না।

অভিভাবকদের পক্ষে আশুয়া খাতুন বলেন, প্রিন্সিপাল  সাহেব এখানে বসে রাতের আঁধারে পকেট কমিটি বানানোর নোংরা রাজনীতি করছেন। এই দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের অধীনে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়। আমরা তাঁর দ্রুত অপসারণ চাই। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাদ্রাসা ও আশেপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ মোতায়ন ছিল। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন,উপরের হাই কমান্ডে নির্দেশে কমিটি পাঠিয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী কমিটি হয়েছে।

 

হারুনার রশীদ বুলবুল

Advertisement

Link copied!