প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচারে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচারে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ফাইল ফটো

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার লড়াই অত্যন্ত কঠিন। এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের অর্থনীতি ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হওয়ায় দেশের উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে সমতল অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার না হলে দেশের বহু সমস্যা আগেই সমাধান করা সম্ভব হতো। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বিভিন্ন দাবি ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন আরও সহজ হতো। তিনি জানান, সরকার ধাপে ধাপে যেসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

তিনি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চায় যেখানে কোনো জাতিগোষ্ঠী বৈষম্যের শিকার হবে না। সবার অংশগ্রহণে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

সভায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, সমতলের আদিবাসী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে জাতিভিত্তিক পরিচয়ের স্বীকৃতি, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমির আইনগত মালিকানা নিশ্চিত করা, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণসুবিধা এবং বিভিন্ন প্রকল্প ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নামে উচ্ছেদ বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন।

পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে গেছে। তিনি জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুরু হয় এবং সে সময় ৩১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার সেটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে। বর্তমান সরকার এসব হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, আগের সরকার ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করলেও সেগুলোর কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে পারেনি বলে তিনি দাবি করেন।

প্রধানমন্ত্রী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান। একই সঙ্গে কিডনি ডায়ালাইসিস, হৃদ্‌রোগের রিংসহ জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর আরোপিত কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন।

 

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রং এবং দেশের ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!