চাপমুক্ত মেসির চোখ নতুন ইতিহাসে

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬, ০৭:২৭ এএম

চাপমুক্ত মেসির চোখ নতুন ইতিহাসে

ফাইল ফটো

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতি পেছনে ফেলে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে পুরোপুরি নতুন মানসিকতা নিয়েই নামছে আর্জেন্টিনা। অধিনায়ক লিওনেল মেসির ভাষায়, আগের বিশ্বকাপের ফাইনাল অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। তাই রোববার স্পেনের বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে অতীতের অর্জনের কোনো চাপ বহন করছেন না তিনি।
 
ফাইনালের আগে এক অনুষ্ঠানে মেসিকে জিগ্যেস করা হয়েছিল, আরেকটি বিশ্বকাপ জিতলে তার অর্জনে নতুন কোনো মাত্রা যোগ হবে কি না। উত্তরে ৩৯ বছর বয়সি এই তারকা বলেন, ‘গতবারের বিশ্বকাপ ফাইনাল ইতিমধ্যেই খেলে ফেলেছি। আমার কাছে ওই ম্যাচ সেদিনই শেষ হয়ে গেছে। এখন সবকিছুই নতুন।’
 
মেসির মতে, আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের মানসিক দৃঢ়তা। টুর্নামেন্টজুড়ে দল যেভাবে লড়াই করেছে, তাতে ফাইনালে অতিরিক্ত চাপ অনুভব করার কোনো কারণ দেখছেন না তিনি।
 
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই ছোটবেলা থেকে আনন্দের জন্য ফুটবল খেলতে শিখেছি। স্কুলে, রাস্তায় কিংবা মাঠে। সব জায়গাতেই খেলাটা উপভোগ করেছি। কখনো চাপ নিয়ে ভাবিনি। আমরা জিততে চাই, কিন্তু এটা দলগত খেলা। সবসময় জেতা সম্ভব নয়। ছোটবেলায় হার থেকেও শিখেছি, আর সেটাই আমাকে ফুটবলার ও মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।’
 
রোববারের ফাইনাল মেসির ক্যারিয়ারের আরেকটি বিশেষ মাইলফলকও। ব্রাজিল কিংবদন্তি কাফুর পর ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলতে নামবেন তিনি। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা শিরোপা জিততে পারলে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে।
 
একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও। তার বক্তব্যের সময় দর্শকদের চিৎকারে বিরক্ত হন মেসি। পরে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমাকে শেখানো হয়েছে, অন্যদের সম্মান করতে এবং তাদের কথা মন দিয়ে শুনতে। আমাদের সেটা মনে রাখা উচিত।’
 
ফাইনালের আগে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়- এটাই কি আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ? এই প্রশ্নের জবাবে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি মাত্র দুই শব্দে উত্তর দেন, ‘আস্ক লিও’ (লিওকেই জিগ্যেস করুন)। এরপর আর এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি তিনি।
 
তবে মেসির প্রশংসায় ছিলেন উদার। স্কালোনি বলেন, ‘মেসি নিখাদ ইতিহাস, একজন কিংবদন্তি। ৩৯ বছর বয়সে আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা অবিশ্বাস্য। আমরা দিয়েগোকে (ম্যারাডোনা) খুব মিস করি, কিন্তু মেসি এখনও আমাদের সঙ্গে আছে। এই দলের হয়ে সে যা অর্জন করেছে, তা সারাজীবন মনে রাখা হবে।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘মেসি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার; এটা বলতে পারা আমার জন্য গর্বের।’
 
ফাইনালের আগে প্রস্তুতির সময়সূচি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ। তার অভিযোগ, নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ না দিয়েই দুপুরের প্রচণ্ড গরমে অনুশীলনের সূচি নির্ধারণ করেছে ফিফা।
 
স্কালোনি বলেন, ‘আমরা রাত ১১টায় নিউইয়র্কে পৌঁছেছি। এরপর এমন সময়ে অনুশীলন করতে হয়েছে, যেটা আমরা চাইনি। সংবাদ সম্মেলনসহ নানা আনুষ্ঠানিকতার কারণে খুব তাড়াহুড়ো করে অনুশীলন করতে হয়েছে। নতুন কিছু নিয়ে কাজ করার সময়ই পাইনি।’
 
তিনি আরও যোগ করেন, ‘টুর্নামেন্টের শেষ দিকে এসে খেলোয়াড়দের বেশি বিশ্রাম প্রয়োজন। কিন্তু এখানে হচ্ছে উল্টোটা। গরমের মধ্যে ম্যাচ খেলতে হচ্ছে, আবার দুপুরে অনুশীলনও করতে হচ্ছে। বিশ্রামের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।’
 
সব মিলিয়ে, ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নেই। মেসি অতীত ভুলে নতুন লড়াইয়ে মনোযোগী, আর স্কালোনি চাইছেন দল যেন সেরা প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামতে পারে। রোববারের ফাইনালে তাই ইতিহাস গড়ার সুযোগ থাকবে আলবিসেলেস্তেদের সামনে।

Link copied!