খুবিতে জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রকল্পের ইনসেপশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

ইব্রাহিম খলিল , খুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

খুবিতে জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রকল্পের ইনসেপশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-মধ্য উপকূলীয় বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের ইনসেপশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৯ জুলাই (রবিবার) সকাল ৯:৩০ মিনিটে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে "Adaptive Delta Management for Climate Resilient Agriculture and Food Security in South-West and South-Central Coastal Bangladesh (ADM-CRAFT)" শীর্ষক এই প্রকল্পের উদ্বোধনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। নেদারল্যান্ডসের রিসার্চ কাউন্সিল (এনডব্লিউও)-এর অর্থায়নে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডসের ওয়াগেনিনজেন ইউনিভার্সিটি এন্ড রিসার্চ যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চিফ প্যাট্রন হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রত্যক্ষ করছে। তাই উপকূলীয় প্রতিবেশ, জলবায়ু সহনশীলতা, দুর্যেোগ ঝুঁকি হ্রাস, কৃষি, পানি সম্পদ ও টেকসই উন্নয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা নয়, সেই জ্ঞানকে মানুষের বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানো। এ লক্ষ্যেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে ‘লিভিং ল্যাব’ ধারণাকে এগিয়ে নিতে চায়, যেখানে গবেষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করে বাস্তবভিত্তিক সমাধান উদ্ভাবন করবেন। এই যৌথ উদ্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নানা ধরনের সমস্যা থাকলেও লবণাক্ততাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর ফলে বহু মানুষ নিজ আবাসস্থল ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে, যা উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উপকূলের মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে এ প্রকল্পের মাধ্যমে যদি কার্যকর সমাধান বের করা যায়, তবে মানুষ নিজ এলাকায় থেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সফলভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে। মানুষের প্রকৃত সংকট সঠিকভাবে চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান দিতে পারলেই এ প্রকল্পের সফলতা নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-মধ্য উপকূলীয় অঞ্চল আজ বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের সামনের সারিতে অবস্থান করছে। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এ অঞ্চলের ক্ষুদ্র কৃষকদের জীবিকাকে ক্রমেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এ বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের জন্য সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা সময়ের দাবি।

গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ওয়াটার অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক প্রতিনিধি মিসেস নিল্টিয়ে কিলেন। তিনি বলেন, এডিএম-সিআরএএফটি প্রকল্প বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের যৌথ গবেষণা সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করাই এ প্রকল্পের মূল শক্তি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গবেষণার ফলাফল শুধু প্রকাশনা বা সেমিনারে সীমাবদ্ধ না রেখে এমন একটি টেকসই গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যার সুফল আগামী ৫ থেকে ১০ বছর পরও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ভোগ করতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন পবিপ্রবির ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ আব্দুল লতিফ। স্বাগত বক্তব্য ও মূল প্রবন্ধ (কী-নোট পেপার) উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর (পিআই) পবিপ্রবির অধ্যাপক প্রফেসর ড. মোঃ ইকতিয়ার উদ্দিন। প্রকল্পের পরিচিতি তুলে ধরেন কো-পিআই প্রফেসর ড. কামরুল হাসান এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন খুবির কো-পিআই প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল্লাহ ইউসুফ আল হারুন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর একটি মুক্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং কৃষক প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে যৌথ গবেষণার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

সিয়াম সরিষা
Link copied!