ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে ধূমপান ও তামাকমুক্ত ঘোষণার দাবি রক্তিমার

ওয়াসিফ আল আবরার , ইবি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে ধূমপান ও তামাকমুক্ত ঘোষণার দাবি রক্তিমার

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে ধূমপান ও তামাকমুক্ত ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী সংগঠন রক্তিমা। এছাড়াও ক্যাম্পাসে ক্ষতিকারক আগাছা পার্থেনিয়াম নিধনের দাবিও জানায় তারা। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের নিকট দেওয়া স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানিয়েছেন রক্তিমার সদস্যরা।

স্মারকলিপিতে তারা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৫ (সংশোধন) এর ধারা ৬খ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও খেলার মাঠের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা নিষিদ্ধ। বর্তমান সময়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় হুমকি হলো ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার। এছাড়াও ক্যাম্পাস এলাকায় পার্থেনিয়াম আগাছার বিস্তার শিক্ষার্থী ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে উঠছে।

এসময় উপাচার্যের কাছে ৪ দফা দাবি জানায় রক্তিমার সদস্যরা। তাদের দাবিগুলো হচ্ছে—বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা; ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা; ক্যাম্পাসে দৃশ্যমান স্থানে "No Smoking Zone" সাইনবোর্ড স্থাপন করা এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা পার্থেনিয়াম আগাছা দ্রুত নিধন ও নিয়মিত পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা।

রক্তিমার সভাপতি সোহরাব উদ্দিন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ধূমপান ও মাদকের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, এই নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই শুরু হওয়া উচিত। ধূমপান কেবল ধূমপায়ীর জন্য নয়, বরং আশেপাশের মানুষদের জন্যও সমানভাবে ক্ষতিকর। "প্যাসিভ স্মোকিং" এর ফলে অনেকেই অনিচ্ছাকৃতভাবে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন, যা ক্যান্সার, হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, পার্থেনিয়াম আগাছা ত্বকের রোগ, অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করে এবং পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে। তাই আমরা এগুলোর বন্ধের দাবি জানিয়েছি। আশা করি প্রশাসন এগুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন।

স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, তাদের দাবিগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে খুবই প্রাসঙ্গিক। আমরাও ইতোমধ্যে চেষ্টা করছি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিষ্কার রাখার। প্রশাসনের কার্যক্রমের একটি অংশ তারা দাবি হিসেবে নিয়ে এসেছে। আমি মনে করি যে এটি সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এই কাজগুলোকে আমরা সামনের দিকে সুন্দরভাবে করতে পারবো।

সিয়াম সরিষা
Link copied!