জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব না হলে এবং অতীত ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে নেপথ্য থেকে পুনরায় ফ্যাসিবাদের আগমন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় উপাচার্য ছাত্র-জনতার আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “জুলাই আন্দোলনের ভয়াবহতা ও কঠিন বাস্তবতা আমাদের ভোলা উচিত নয়। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া মোটেও সহজ কাজ ছিল না। জীবনকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে তরুণ সমাজ ও ছাত্র-জনতা সেদিন রাজপথে নেমেছিল। আন্দোলনের মূল সারিতে শিক্ষার্থী-জনতা থাকলেও নেপথ্যে সব রাজনৈতিক দল ও তাদের ছাত্র সংগঠনগুলো অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।”
অতীতের রাজনৈতিক ইতিহাসের পটভূমি তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর একটি বিশেষ গোষ্ঠী বা দল পুরো অর্জনকে নিজেদের ব্যক্তিগত ফসল বলে দাবি করেছিল। ফলে দেশে চরম বিভাজন ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। সে কারণেই তৎকালীন সময়ে দেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধির পথে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছিল।”
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “২৪-এর অভ্যুত্থানে যেমন আমাদের মাঝে কোনো ভেদাভেদ বা মতপার্থক্য ছিল না, ঠিক তেমনি আজকেও আমাদের একই ঐক্য বজায় রাখতে হবে। ফ্যাসিস্টরা এখনও ভিন্ন ভিন্ন রূপ ও ভঙ্গিতে দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে সংঘটিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। শুধু আবেগের বশবর্তী হয়ে থাকলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আবারও হুমকির মুখে পড়তে পারে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুস শাহীদ মিয়ার সভাপতিত্বে ও আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম, ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক ড. রশিদুজ্জামান, সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ. এম. এম. শরফরাজ নওয়াজ, গ্রীন ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি আব্দুল মঈদ বাবুল, জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মীর সিরাজুল ইসলাম, গ্রীন ফোরাম কর্মকর্তা ইউনিটের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বক্তব্য দেন।
ইবি শাখা ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সমন্বয়ক এস এম সুইট, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সজীব হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত, খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি জুনায়েদ খান, বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার সভাপতি এস এম শামীম বক্তব্য দেন।
সভায় জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়াও জুলাই '২৪ গণঅভ্যুত্থানের ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। বক্তব্য প্রদান শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম আশরাফ উদ্দীন খান আজহারী।
এর আগে, সকাল ৯:২০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচি পালন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সেখানে সকাল ৯:৩০ মিনিটে উপাচার্য আনন্দের প্রতীক বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর একটি আনন্দ শোভাযাত্রা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে সমবেত হয়।

আপনার মতামত লিখুন :