সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক-ফলোয়ার বাড়াতে উল্টাপাল্টা বক্তব্যে রাজনীতি উচিত নয়: প্রতিমন্ত্রী

আ. ন. ম. রিসালাত আলিফ , বাকৃবি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক-ফলোয়ার বাড়াতে উল্টাপাল্টা বক্তব্যে রাজনীতি উচিত নয়: প্রতিমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক-ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য উল্টাপাল্টা বক্তব্য দিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। তরুণ নেতৃত্বের কাছ থেকে মানুষ দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে। ভবিষ্যতে বুঝবেন, জনগণের সামনে যখন সমর্থনের জন্য আসবেন, তখন বুঝবেন এসব কর্মকাণ্ডের জন্য আপনারা জনগণশূন্য হয়ে গেছেন। জনগণ এসব পছন্দ করে না। তিনি বলেন, জনগণ এখন বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ চায় এবং পাঁচ বছর পর জনগণই সরকারের কর্মকাণ্ডের বিচার করবে ও কারা দেশ পরিচালনা করবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে।

শনিবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (বিএসভিইআর) ৩২তম বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্র, অস্থিরতা, নির্যাতন, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের রাজনীতি জনগণ কখনো গ্রহণ করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। বিএনপি একটি আধুনিক, উদার ও গণতান্ত্রিক দল এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। বিএনপি কোনো নিউজ কন্ট্রোল করে না, গণমাধ্যমকে অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছে। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। যতবার বাংলাদেশের মানুষ নিরপেক্ষভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবার বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে বেছে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফিশারিজ খাতেও ৫০০টির বেশি পদের অনুমোদন হয়েছে। দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে ভেটেরিনারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।এর আগে ‘টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে ভেটেরিনারি শিক্ষা ও গবেষণার কার্যকর প্রয়োগ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিএসভিইআরের ৩২তম বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক, প্রাণিচিকিৎসক, নীতিনির্ধারক, প্রাণিসম্পদ খাতের উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে ১৬টি সমান্তরাল বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে মোট ৩১৮টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ১১৬টি মৌখিক এবং ২০২টি পোস্টার উপস্থাপনা রয়েছে।বিএসভিইআরের সভাপতি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং ইন্টার অ্যাগ্রো বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এ. কে. এম. খসরুজ্জামান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএসভিইআরের কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সুকুমার সাহা, ৩২তম বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. তাহসিন ফারজানাসহ বিএসভিইআরের কার্যনির্বাহী ও আয়োজক কমিটির সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে উচ্চ উৎপাদনশীল বাণিজ্যিক জাতের পাশাপাশি দেশের পরিবেশ ও গ্রামীণ খামার ব্যবস্থার উপযোগী জাত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। দেশি গরু যেন গড়ে চার লিটার দুধ, দেশি ছাগল এক লিটার দুধ এবং মুরগি বছরে ন্যূনতম ১৫০টি ডিম দিতে পারে এমন জাত উন্নয়নে গবেষণা ও পরিকল্পনা প্রয়োজন। এছাড়া দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে নীতিনির্ধারণ ও গবেষণায় আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করারও আহ্বান জানান তিনি।

সিয়াম সরিষা
Link copied!