রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় বাসাবাড়ির এয়ার কন্ডিশনারের (এসি) পাইপ খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে শেখেরটেকের ১১ নম্বর রোডের ৩৫ নম্বর একটি বাড়িতে একাধিক এসির সংযোগ পাইপ খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ভবনটির নিচতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্ল্যাটের বাইরে থাকা এসির পাইপ চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাধারণ চুরির পাশাপাশি এখন বাসাবাড়ির বাইরে থাকা এসির মূল্যবান ধাতব পাইপও চোরদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে। এসির ইনডোর ও আউটডোর ইউনিটের মধ্যে সংযোগে সাধারণত তামা বা কপারজাত পাইপ ব্যবহৃত হয়, যা পুরোনো ধাতু হিসেবে বিক্রি করা যায়। এ কারণে অল্প সময়ে খুলে নেওয়া সম্ভব—এমন পাইপ চোরদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে বলে ধারণা বাসিন্দাদের।
শেখেরটেকের ১১ নম্বর রোডের ওই ভবনের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তরা সুযোগ বুঝে ভবনের বাইরের অংশে থাকা এসির পাইপ কেটে বা খুলে নিয়ে যায়। নিচতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত যেসব ফ্ল্যাটে এসির পাইপ সহজে নাগালের মধ্যে ছিল, সেগুলোর বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সকালে বিষয়টি নজরে আসার পর বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
একজন বাসিন্দা বলেন, রাতে কখন কে ভবনের পাশে এসে পাইপ খুলে নিয়ে গেছে, তা তারা বুঝতে পারেননি। সকালে এসি ও বাইরের ইউনিটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখে বিষয়টি ধরা পড়ে। একাধিক ফ্ল্যাটে একই ধরনের ঘটনা ঘটায় এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
বাসিন্দারা বলছেন, শুধু চুরি নয়, ওই ভবনের সামনের এলাকায় রাত হলেই কিছু ব্যক্তির আড্ডা বসে। সেখানে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন করা হয় বলেও তাদের অভিযোগ। গভীর রাত পর্যন্ত অপরিচিত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা থাকায় এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, মাদক কেনার টাকা জোগাড় করতে ছোটখাটো মূল্যবান জিনিস চুরির সঙ্গে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের কেউ কেউ জড়িয়ে থাকতে পারে। তবে এসির পাইপ চুরির সঙ্গে মাদকসেবীদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসির পাইপ চুরি দেখতে ছোটখাটো ঘটনা মনে হলেও এর আর্থিক ক্ষতি কম নয়। পাইপ খুলে নেওয়ার সময় এসির অন্যান্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে নতুন পাইপ বসানোর পাশাপাশি মেরামত, গ্যাস রিফিল ও সার্ভিসিংয়ের খরচও বহন করতে হয়। একই ভবনের একাধিক এসি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হয়ে দাঁড়ায়।
এ ধরনের চুরির আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হচ্ছে, বহুতল ভবনের দ্বিতীয় বা তৃতীয় তলা পর্যন্ত উঠে দুর্বৃত্তরা যদি এসির পাইপ খুলতে পারে, তাহলে ভবনের জানালা, বারান্দা কিংবা অন্য কোনো পথ দিয়ে বাসার ভেতরে প্রবেশের ঝুঁকিও তৈরি হয়। ফলে ঘটনাটিকে শুধু কয়েক ফুট পাইপ চুরির ঘটনা হিসেবে না দেখে আবাসিক এলাকার নিরাপত্তার বিষয় হিসেবেও দেখছেন বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর দাবি, শেখেরটেকের আবাসিক সড়কগুলোতে রাতে পুলিশের টহল বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব স্থানে গভীর রাতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে বলে অভিযোগ রয়েছে, সেখানে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে আশপাশের ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে এসির পাইপ চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
স্থানীয়রা বলছেন, একটি বাড়িতে একসঙ্গে একাধিক এসির পাইপ খুলে নেওয়ার ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, দুর্বৃত্তরা আবাসিক এলাকার কোন জিনিস সহজে খুলে বিক্রি করা যায় সেদিকেও নজর দিচ্ছে। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে একই ধরনের ঘটনা আশপাশের ভবনেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
এ পরিস্থিতিতে ভবন মালিক ও বাসিন্দাদেরও সিসিটিভি সচল রাখা, ভবনের বাইরের অংশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা এবং রাতে সন্দেহজনক ব্যক্তির উপস্থিতি দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শেখেরটেকের বাসিন্দাদের এখন একটাই দাবি—রাতের মাদকসেবনের আড্ডা ও চুরির ঘটনা বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে নিজেদের বাসাবাড়িতেই নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে না হয়।

আপনার মতামত লিখুন :