জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অশালীন, আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।একজন সচেতন নাগরিক ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) কাছে এ অভিযোগ দেন। অভিযোগে ঘটনার তদন্ত, সংশ্লিষ্ট মামলার নথিপত্র যাচাই এবং আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বা আদালতের নির্দেশনা থাকলে তা কার্যকর করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানাধীন ৫৫ নম্বর কাপুড়িয়া সদরনী গ্রামের বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা মো. শহিদুল ইসলামসহ প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন নেতাকর্মী অংশ নেন। ওই কর্মসূচিতে বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অশালীন ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই ঘটনার পর ২০২৫ সালের ২০ মার্চ সাবেক এক ছাত্রদল নেতা বাদী হয়ে ময়মনসিংহের সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১ নম্বর আমলি আদালতে মানহানি মামলা নং-৭৫৪/২০২৫ দায়ের করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মো. শহিদুল ইসলাম, মির্জা সোবেদ আলী রাজা, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা মো. আনিসুর রহমানসহ প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিদের এবং তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অশালীন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে শহিদুল ইসলামসহ প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।
এদিকে দৈনিক প্রলয় পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মির্জা সোবেদ আলী রাজা বর্তমানে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে ভাঙ্গা থানা এলাকায় অবস্থান করছেন অথবা আত্মগোপনে রয়েছেন—এমন আশঙ্কার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর প্রকৃত অবস্থান এবং মামলার বর্তমান আইনগত পরিস্থিতি যথাযথভাবে যাচাই করার জন্য পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অশালীন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ভাঙ্গা থানার পুলিশের অনীহা রয়েছে। এমনকি পুলিশের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও নিয়মিত ওঠাবসা রয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভাঙ্গা থানার পুলিশ কিংবা অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :