বগুড়ায় মুদি দোকানি হৃদয় হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

মোঃ আব্দুল মোমিন পিয়াস , বগুড়া জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম

বগুড়ায় মুদি দোকানি হৃদয় হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

ফাইল ফটো

বগুড়ায় মুদি দোকানি রাকিবুল হাসান হৃদয় হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৫-এর বিচারক কৌশিক আহমেদ খোন্দকার এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সাদ্দাম হোসেন স্বাধীন ও রাব্বি মিয়া। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আশিকুল ইসলাম, শাকিল ইসলাম ও মতিন মিয়া। রায় ঘোষণার সময় পাঁচ আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার কৈপাড়া এলাকায় রাকিবুল হাসান হৃদয়ের মালিকানাধীন ‘হৃদয় ভ্যারাইটি স্টোরে’ আসামিরা গিয়ে ঈদ উপলক্ষে চাঁদা দাবি করেন। হৃদয় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে দোকানে ঢুকে তাঁকে ও তাঁর বাবা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশীদকে (৫৮) উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন।

হামলায় বাবা-ছেলে দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাকিবুল হাসান হৃদয়ের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত হৃদয়ের মা মোছা. আয়েশা সিদ্দিকা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত পাঁচ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর নিহত হৃদয়ের মা ও মামলার বাদী মোছা. আয়েশা সিদ্দিকা আদালত প্রাঙ্গণে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার একমাত্র ছেলে কোরআনের হাফেজ ছিল। ঈদের আগের দিন ওরা আমার ছেলেকে খুন করে। ঈদের পরের দিন আমার ছেলের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। সেই শিশু কোনো দিন তার বাবাকে দেখতে পারেনি।”

তিনি আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি এস এম মাসুদুর রহমান স্বপন বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন। তিনি এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সিয়াম সরিষা
Link copied!