সিএমপির অভিযানে চাঞ্চল্যকর চুরির রহস্য উদঘাটন, ৭ সদস্যের চোরচক্র গ্রেপ্তার

06 মো: সাইফুদ্দিন চৌধুরী জুয়েল , উপ-সম্পাদক

প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩১ পিএম

সিএমপির অভিযানে চাঞ্চল্যকর চুরির রহস্য উদঘাটন, ৭ সদস্যের চোরচক্র গ্রেপ্তার

ফাইল ফটো

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) আকবরশাহ থানার পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। এ ঘটনায় সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চোরাইকৃত স্বর্ণালংকার বিক্রির ১৫ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা, ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৮ জুলাই ২০২৬ আকবরশাহ থানাধীন সিটি গেইট এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. আলমগীর মিয়া স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে দুপুরের মধ্যে তার বাসার দরজার হুক কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। পরে তিনি ফিরে এসে দেখতে পান, ঘরের আলমারি ভেঙে প্রায় ১০ ভরি ৪ আনা স্বর্ণালংকার, ২ লাখ টাকা নগদ, ১২ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল এবং একটি আইফোন-১২ প্রো ম্যাক্স চুরি হয়েছে। একই সময়ে প্রতিবেশী নুরুল ইসলামের বাসা থেকেও নগদ ৬০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার ও একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়।

ঘটনার পর আলমগীর মিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে আকবরশাহ থানায় মামলা দায়ের করা হলে সিএমপির পুলিশ কমিশনারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আকবরশাহ থানার একটি বিশেষ আভিযানিক দল তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং, কোতোয়ালী ও অন্যান্য এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— জসিম উদ্দিন ওরফে জসিম, মোস্তাকিন হোসেন মিঠু, সেতু দাস ওরফে সালাউদ্দিন, মোহাম্মদ আলী, দেবব্রত বণিক, মো. ইসমাইল এবং ফারজানা বেগম।

পুলিশ জানায়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ আলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাসায় চালভর্তি ড্রামের মধ্যে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৫ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা, একটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল এবং স্বর্ণ ওজনের নিক্তি উদ্ধার করা হয়।

এরপর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ঢাকার তাতীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি নেকলেস, তিনটি চেইন, এক জোড়া কানের দুল, একটি আংটিসহ মোট ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং আরও একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে গ্রেপ্তারকৃত সেতু দাস, জসিম উদ্দিন ও মোস্তাকিন হোসেন মিঠু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ আলী ও ফারজানা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, চুরি হওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার এবং চক্রের পলাতক ও অজ্ঞাত সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সেতু দাস ও জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ছয়টি করে, মোস্তাকিন হোসেন মিঠুর বিরুদ্ধে নয়টি এবং মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে মাদক, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের অভিযোগ রয়েছে।

Link copied!