কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গোমতী নদীর জেগে ওঠা চর ও সমতল ভূমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রায় সব এলাকাতেই এখন আগাম জাতের সবজি চাষের ধুম পড়েছে। অধিক লাভের আশায় চাষিরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। সরেজমিনে গোমতীর চর ও বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা জমি তৈরি, নতুন চারা রোপণ এবং আগে লাগানো ছোট সবজির চারাগুলোর নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাজারে নতুন সবজির চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় আগাম চাষে লাভের সম্ভাবনা দেখছেন তারা।
কৃষকেরা লালশাক, মুলা, ফুলকপি, পাতাকপি, ঢেঁড়স, পুঁইশাক, টমেটো, লাউ ও মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন জাতের সবজি আবাদ করছেন। ইতিমধ্যে অনেকে আগাম জাতের সবজি বাজারে তুলে ভালো দামও পাচ্ছেন। তবে সবজির ভালো দামের বিপরীতে সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের বাড়তি খরচ নিয়ে চিন্তিত চাষিরা। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সবজি চাষি নূর মোহাম্মদ বলেন, “সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তার ওপর শ্রমিকের পারিশ্রমিকও চড়া। এত খরচ করে চাষাবাদ করে আগের মতো লাভ হয় না, খরচ পোষাতে কষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে আমি এখন আগের মতো বেশি জমিতে চাষ করছি না।”
আরেক চাষি রবিউল হুসাইন বলেন, “খরচ বাড়লেও আমাদের উপায় নেই। আগাম সবজি বিক্রি করতে পারলে কিছুটা ভালো দাম পাওয়া যায়। এই আশাতেই আমরা ঝুঁকি নিয়ে চাষ করি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভের আশা করছি। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল মতিন বলেন, “উপজেলায় এ বছর আগাম সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ভালো। কৃষকেরা এখন লাভজনক ফসল চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছি, যাতে তারা সুষম সার ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়াতে পারেন। আগাম সবজি চাষ করে তারা যেন লাভবান হতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন।”

আপনার মতামত লিখুন :