মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন

ধর্মপাশা মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ,তদন্তে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী

ধর্মপাশা মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ,তদন্তে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী

ধর্মপাশা মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ,তদন্তে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী

মোবারক হোসেন রুবেল, ধর্মপাশা : সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ এলাকায় নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের তিনতলা ভবনের নির্মাণ কাজটি যেনতেনভাবে করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ভবন নির্মাণ কাজটি নিয়ে ধর্মপাশার ইউএনওর কাছে গত মঙ্গলবার দুপুরে নানা অনিয়মের অভিযোগ মৌখিকভাবে তুলে ধরেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। ইউএনও বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন। অভিযোগের তদন্ত করতে শনিবার বেলা একটার দিকে সরোজমিনে এই ভবন নির্মাণ কাজটি পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ইকবাল শিকদার। গণপূর্ত বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দরপত্রের মাধ্যমে ১৩কোটি ৪১লাখ টাকা ব্যয়ে ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের জামে মসজিদ পুকুরের খানিকটা পশ্চিমে ধর্মপাশা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের তিনতলা ভবন নির্মাণের কাজটি পায় কবীর সিন্ডিকেট, ঢাকা নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদার কবীর হোসেনকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৯সালের ২১জুলাই। ২০২০সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই ভবনের নির্মাণ কাজটি সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভবন নির্মাণের মাত্র ১৫ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মডেল মসজিদের ভবন নির্মাণ কাজে কোনো তদারকি না থাকায় ঠিকাদার তাঁর ইচ্ছেমতো ভবন নির্মাণ কাজটি করে আসছেন। কাজে নিম্ন মানের বালু ও পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। সিডিউল অনুয়ায়ী কাজ করা হচ্ছে না। সময় পেরিয়ে গেলেও ভবন নির্মাণ কাজ নিয়ে তালবাহানা করা হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখ ও হতাশাজনক ।ঠিকাদার কবীর হোসেনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ঠিকাদারের নিয়োজিত প্রতিনিধি আমান উল্লাহ বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম করা হচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন,স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ভবন নির্মাণ কাজ নিয়ে আমার কাছে নানা অনিয়মের অভিযোগ করায় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আমি কথা বলেছি। গণপূর্ত বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ইকবাল শিকদার বলেন, আমি সরোজমিনে শনিবার দুপুরে ভবন নির্মাণ কাজটি পরিদর্শন করেছি। কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কী না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন থেকে আমাদের কার্যালয়ের একজন প্রকৌশলী কাজটি তদারকি করার জন্য নিয়মিত এখানে থাকবেন।তিনি আরও বলেন, ঠিকাদার যথাসময়ে কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে দুই মাস আগে চিঠি পাঠিয়েছি। বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |