মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন
মনসুর আলম মুন্না, কক্সবাজার সদর : আওয়ামী লীগ নেতা সাইফ উদ্দিনের এক দুসম্পর্কের আত্মীয়ের মাধ্যমে পরিচয় হয় ঘাতক আশরাফুল ইসলামের। সেই পরিচয় আরো ঘনিষ্ঠ করে রোববার বিকেলে বড় বাজার থেকে দেশীয় মদ ও পেয়ারা কিনে হলিডে মোড়ের হোটেল সানমুনের ২০৮ নম্বর কক্ষে উঠেন তারা।
সেখানে দেশীয় মদ ও পেয়ারা খাইয়ে মাদ্রাসা ছাত্র আশরাফুলকে এক পর্যায়ে যৌন নির্যাতন করে সাইফ উদ্দিন। যৌন নির্যাতন করে সাইফ সেই ভিডিও ধারণ করেছে নিজের মোবাইলে। পরে বাইকে করে গোলদিঘির পাড়ে নামিয়ে দিয়ে ১০০ টাকা দিয়ে চলে যেতে বলে।
এর এক ঘন্টা পর আবারও ফোন করে হোটেলে ডাকে সাইফ। সেখানে আবারও চেষ্টা করা হয় যৌন নির্যাতনের। তখন এক পর্যায়ে নিজের উপর যৌন নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতেই আওয়ামীলীগ নেতা সাইফ উদ্দিনকে হাত পা বেঁধে ফেলেন। ছুরিকাঘাত ও রগ কেটে দিয়ে হত্যা করে মাদ্রাসা ছাত্র আশরাফুল ইসলাম। হত্যা করার পরপরই হোটেলের সামনে থাকা ভিকটিমের মোটর সাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় আশরাফুল ।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ধরে বহু প্রতিক্ষার পর শনাক্ত করা হয় এই হত্যাকারী আশরাফুলকে। জেলা জুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর ছিল। অবশেষে সোমবার রাত ১২ :৪০ মিনিটের সময় টেকনাফের হোয়াইক্যং থেকে ঘাতক আশরাফুল ইসলামকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন- ভিকটিম ও ঘাতক পূর্বের পরিচিত। সে সুবাধে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে উঠে। কিন্তু যখন সম্পর্কটি মোবাইলে ধারণ করে তখন ঘাতক আশরাফুল ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সে হত্যার পরিকল্পনা করে। মদ খাওনোর পর চাদর দিয়ে মূখ চাপা দেয়, বেল্ট দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলেন।
তারপর ছুরি দিয়ে গলা কাটার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে সে ভিডিও ধারণকৃত মোবাইলটা আলামত নষ্টের জন্য ভেঙে ফেলেন। তিনি আরও বলেন- ভেঙে ফেলা মোবাইল, ব্যবহৃত ছুরি, ভিকটিমের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে। এটি প্রাথমিক স্থর। পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে। এরআগে- গেল সোমবার সকাল ১০ টার দিক টার দিকে শহরের হলিডের মোড়ে ‘সানমুন’ আবাসিক হোটেলের ২০৮নং কক্ষে ওই নেতার মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহত সাইফ উদ্দিন পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক দুর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি শহরের ঘোনার পাড়া এলাকায়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ গণমাধ্যমের প্রকাশ পর থেকে চারদিকে হইচই পড়ে যায়। প্রকাশ্যে আসে আশরাফুলের পরিচয়।