বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন
হুমায়ুন আহমেদ, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমেদ এবং সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দেলোয়ার হোসেন এর বিতর্কিত কর্মকান্ডের জেরে ৭১ নং কাদিগড় সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের অভিভাবক এবং উক্ত গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে উপজেলা শিক্ষা অফিসের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে।
শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মতামতকে উপেক্ষা করে কোন কারণ ছাড়াই নুপুর আক্তার নামে এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমদ ও সহ: উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দেলোয়ার হোসাইনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ৭১ নং কাদিগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন কাচিনা- মল্লিকবাড়ি সড়কে এই মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মানব বন্ধন থেকে অভিযোগ করা হয়, ভূমিদস্যু সাইফুল ইসলাম এবং তার মেয়ের জামাতা বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জায়গা থেকে বাশ কেটে মাটি ভরাট করে পেপে বাগান করার গুরুতর লিখিত অভিযোগ থাকলেও উপজেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমেদ এবং সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার দেলোয়ার হোসেন অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ লেনদেন করে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ এর সুযোগ করে দিচ্ছেন।
উক্ত অভিযোগকে আড়াল করার জন্য উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ঘুষ লেনদেন করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নূপুর আক্তারকে একের পর এক হয়রানি করে যাচ্ছেন। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার জন্য টিইও এবং এটিইও কেও দায়ী করেন বক্তারা।
শিক্ষা অফিসারদ্বয়ের এরকম অনৈতিক কর্মকান্ডে অসন্তোষ বিরাজ করছে স্কুলের অভিভাবক, এলাকাবাসী ও শিক্ষকদের মধ্যে। এখানে বড় ধরনের কোন ষড়যন্ত্র বা অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নিয়ে এমন কিছু করেছেন কিনা তা নিয়ে তদন্তের দাবী উঠেছে।
অপরদিকে গতমাসে উপজেলার ৭১ নং কাদিগড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নুপুর আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে বহাল রাখতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অভিভাবক, ওই স্কুলের কর্মরত শিক্ষক/ শিক্ষিকাদের পক্ষ থেকে আলাদা ৩ টি আবেদন করা হয়েছিলো। এগুলোকে পাত্তা না দিয়ে ইনভেলিড বলে উড়িয়ে দিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমদ ও সহ: উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দেলোয়ার হোসেন।
এর আগেও পার্শ্ববর্তী ত্রিশাল উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ছিল সৈয়দ আহমেদের বিরুদ্ধে। দুর্নীতিবাজ টিইও সৈয়দ আহমেদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারনে এলাকাবাসীর সাথে শিক্ষা অফিস মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে মানববন্ধন থেকে জানানো হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী একাধিক অভিভাবকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুপুর আক্তার দায়িত্বে আসার পর থেকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ আমূল পরিবর্তন হয়েছে৷ এলাকাবাসী এবং অভিভাবক তার কাজের প্রতি খুবই মুগ্ধ। টিইও সৈয়দ আহমেদ একটি কুচক্রী মহলের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ লেনদেন করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার জন্য বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।