মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন
হানিফ উল্লাহ আকাশ, নেত্রকোণা: বুলবুল ইসলাম ও আরজু মিয়া। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি হাঁসের খামার করেন। খামার করে সফলতার স্বপ্নও দেখেন তারা। কিন্তু মূহুর্তেই খামারীদের স্বপ্ন বিলীন হয়ে গেছে। মাদক ব্যবসায়ীর শত্রুতার বিষে খামারের ১ হাজার ৪০০ হাঁস মারা গেছে। গতকাল সোমবার সকালে নেত্রকোনার মদন উপজেলার শাহাপুর পূর্বপাড়া গ্রামে এমন ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগ উঠেছে, শাহাপুর গ্রামের শামছুদ্দিনের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী নূর আহম্মদ (৩০) ও একই গ্রামের মৃত রোজ আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম হাঁসের খামারে বিষ মিশ্রিত খাবার দিয়েছে। আর সেই খাবার খেয়ে সোমবার সকালে খামারীর ১ হাজার ৪০০ হাঁস মারা গেছে।
আরও পড়ুন: ভাড়া কমছে পদ্মা সেতুর ট্রেনে
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, শাহাপুর পূর্বপাড়া গ্রামের বুলবুল ইসলাম ও আরজু মিয়া। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে গত এক মাস আগে ১ হাজার ৪৫০ টি হাঁসের বাচ্চা নিয়ে একটি খামার করেন। হাওরে আমন ফসল রোপন হওয়ায় নিজ বাড়ির সামনে জালের বেড়া দিয়ে ফাঁকা জায়গায় হাঁসগুলো লালন পালন করেন। গত ১৫ দিন আগে মাদক ব্যবসায়ী নূর আহম্মদ ও রবিউল হাঁসের খামারের পাশে তাদের মোটরসাইকেল রাখে। কিছুক্ষণ পড় এসে দেখতে পায় মোটরসাইকেলটি পড়ে গেছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে খামার মালিক বুলবুল ইসলামের স্কুল পড়ুয়া ছেলেকে তুলে নিয়ে মারধর করেন। এ নিয়ে তাদের মাঝে দ্বন্দের সৃষ্টি হয়।
সোমবার ভোরে খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে হাঁসের খামারে দেয় নূর আহম্মদ ও রবিউল। সেই বিষ মিশ্রিত খাবারে খামারীর ১ হাজার ৪০০ হাঁস মারা গেছে। হাঁস মারা যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নূর আহম্মদ বাড়ি থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
হাঁস খামারী আরজু মিয়া বলেন,‘প্রাণী সম্পদ অফিসে প্রশিক্ষণ দিয়ে হাঁসের খামার করেছি। এলাকার মাদক ব্যবসায়ী নূর আহম্মদ ও রবিউল প্রায় সময়েই খামারের পাশে মোটরসাইকেল রাখে। একদিন মোটরসাইকেলটি পড়ে যায়। এতে তারা আমার ভাতিজাকে মারধর করে। আমরা গাড়ি রাখতে নিষেধ করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বিষ মিশ্রিত খাবার দিয়ে আমাদের সব হাঁস মেরে ফেলেছে।’
সোমবার সকাল থেকেই অভিযুক্ত নূর আহম্মদ ও রবিউল ইসলাম পলাতক।
নূর আহম্মদের বোন সুফিয়া আক্তার বলেন,‘ আমার ভাই ৪/৫ দিন ধরে বাড়িতে নাই। আরজু ও বুলবুল মিয়ার হাঁস মরে যাওয়ায় আমার ভাইকে দোষ দিচ্ছে। তারা আমাদেরকে মারধর করতে চাইছে।’
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা তাইরান ইকবাল জানান,‘ আরজু মিয়া ও বুলবুল ইসলাম আমার অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে হাঁসের খামার করেছে। তাদের খামারের ১ হাজার ৪০০ হাঁস মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ল্যাবটেস্ট করার জন্য মারা যাওয়া হাঁসের সেম্পল ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তাওহীদুর রহমান বলেন,‘ খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খালিয়াজুরী) সার্কেল স্যারকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’