মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ন
মনসুর আলম মুন্না, কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়ায় আবুল হাশেম (২২) নামের এক তরুণকে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালিয়াপাড়ার (খামারপাড়ার) পাহাড়ের পাদদেশের বসতঘর থেকে বাইরে বের হয়ে অপহরণের শিকার হন তিনি।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াস প্রতিদিনের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অপহৃত আবুল হাশেম নোয়াখালিয়াপাড়ার বাসিন্দা আবদুর রহিমের ছেলে।
আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে বেতন বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা পাহাড়ের পাদদেশে পানবরজে কাজ করার সময় সোনা আলী (৩৫) নামের একজন অপহরণের শিকার হন। তিনি বাহারছড়া ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের বরাত দিয়ে ইউপির সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, অপহৃত আবুল হাশেম তাঁর চাচাতো ভাইয়ের ছেলে। তিনি টেকনাফ পৌরসভার পুরান পল্লানপাড়ার আবুল কাশেমের একটি খাবার পানি সরবরাহ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সন্ধ্যায় টেকনাফ থেকে বাড়িতে আসেন। রাতে ভাত খেয়ে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঘর থেকে বাইরে বের হলে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে তাঁকে জিম্মি করে টেনেহিঁচড়ে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়। এ সময় তাঁর চিৎকারে বাড়ির লোকজন বের হয়ে টর্চলাইটের আলোয় দেখতে পান, মুখোশধারী কিছু লোক হাশেমকে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এখানে এভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাহাড়ে থাকা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা টাকার জন্য স্থানীয় লোকজনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। আবুল হাশেমকেও তারা অপহরণ করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানতে চাইলে বাহারছড়া পুলিশি তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. মশিউর রহমান বলেন, ইউপির সদস্যের মাধ্যমে তিনি অপহরণের বিষয়টি শুনেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সাড়ে ৯ মাসে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৯০ জনকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪৬ জন স্থানীয় বাসিন্দা, বাকি ৪৪ জন রোহিঙ্গা। অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৪০ জন মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে।