মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন

চলনবিলের সুস্বাদু ক্ষিরা যাচ্ছে সারা দেশে

চলনবিলের সুস্বাদু ক্ষিরা যাচ্ছে সারা দেশে

শাহাদাত হোসেন, চলনবিল:  চলনবিলের সুস্বাদু শসা ও ক্ষিরা যাচ্ছে রাজধানীসহ সারা দেশে
জমে উঠেছে চলনবিলের ঐতিহ্যবাহী ক্ষিরার হাট। চলনবিলের প্রাণকেন্দ্রে দিঘরিয়ার ও চরবর্ধন গাছার ক্ষিরার আড়ৎগুলো পাইকার ও বিক্রেতাদের ভিড়ে জমে উঠেছে। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেচাকেনা হচ্ছে শত শত টন ক্ষিরা। চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ-উল্লাপাড়ার উৎপাদিত  ক্ষিরা রাজধানীসহ যাচ্ছে সারা দেশে। ক্ষিরার আড়ৎ থেকে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৭৫ টন ক্ষিরা রাজধানীতে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলনবিলের উত্তর এলাকার তাড়াশ, নাটোরের সিংড়া ও বগুড়ার শেরপুরের ১টি ইউনিয়নের কৃষকদের উৎপাদিত ক্ষিরা বেচাকেনার জন্য দিঘরিয়া আড়ৎটি প্রায় ১৬ বছর আগে চালু হয়। সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও বগুড়া জেলার ক্ষিরা চাষীরা এখানে বিক্রি করতে আসেন। প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টি ট্রাক প্রস্তুত থাকে। বেলা ১১টা থেকে শুরু হয় বিক্রি। মহাজনরা ক্ষিরা কিনে ট্রাকে লোড দিতে থাকেন। এ কাজে নিয়োজিত রয়েছে প্রায় ৪০ জন শ্রমিক। কেনাবেচার মধ্য দিয়ে ১-২ ঘণ্টার মধ্যে ভরে যায় মহাজনদের আড়ৎ।
হাটে প্রচুর ক্ষিরা আমদানি হওয়ায় ওজনের পরিবর্তে বস্তা চুক্তিতে বিক্রি করা হয়। প্রকারভেদে প্রতি ছোট বস্তা ক্ষিরা বিক্রি হয় ৪৫০ থেকে  ৫০০ টাকা এবং প্রতি বড় বস্তা বিক্রি হয় ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত। এ হাটটি ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে চলে এপ্রিল পর্যন্ত।
কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলার পশ্চিম এলাকার বারুহাস ও তালম ইউনিয়ন, নাটোরের সিংড়ার বিয়াস ইউনিয়ন এবং বগুড়ার শেরপুরের বিশালপুর ইউনিয়নের কৃষকরা প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে ক্ষিরা চাষ করে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ক্ষিরা চাষে ৩ হাজার হেক্টর জমি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। এবছর ফলন কম হলেও দাম বেশি হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
চাষীরা জানান, প্রতিবিঘা জমিতে ক্ষিরা চাষ করতে প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। ১ বিঘা থেকে উৎপাদিত ক্ষিরা বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার  টাকা। এ আবাদে পোকা-মাকড়ের উৎপাত  কম, তাই ক্ষিরা চাষে কৃষকের আগ্রহ বেশি।
ব্যবসায়ী ঘুরকার মাফি বলেন, চলনবিল অঞ্চলের উৎপাদিত ক্ষিরার মান ভালো, দামও কম। ক্ষিরার মান ভালো হওয়ায় এর কদর সারা দেশে রয়েছে।’
উল্লাপাড়া  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি বলেন, চলিত বছরে উল্লাপাড়া উপজেলার ৩৫০ হেক্টর জমিতে শসা ও ক্ষিরার  চাষ করা হয়েছে। এই অঞ্চলে অলরাউন্ডার,শাহাজাদী, তামিল জাতের শসা ও ক্ষীরার চাষ বেশি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর খিরার বেশ  ফলন হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের পরামর্শসহ কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |