মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন
হারুনার রশীদ বুলবুল, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর জাতীয় সমাজসেবা দিবস উদযাপন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে(২ জানুয়ারি ২০২৫) বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই আয়োজন করা হয়। ‘ কেউ পাশে নেই যার, সমাজসেবা আছে তার’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে কল্যাণরাষ্ট্র বিষয়ে মুক্ত আড্ডায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোঃ আলমগীর হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাকির হোসেন। অনুষ্ঠান শুরুতে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার কর্তৃক বিগত এক বছরে প্রদত্ত সেবাসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ সহ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাকির হোসেন বলেন ১৯৯৭-১৯৯৮ অর্থবছর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা প্রদান কার্যক্রম চালু হয়। বর্তমানে সারা বাংলাদেশে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৬০ লক্ষ ১ হাজার জন বয়স্ক ভাতা, ২৭ লক্ষ ৭৫ হাজার জন বিধবা ভাতা এবং ৩৬ লক্ষ ৬৪ হাজার জন প্রতিবন্ধী ভাতা সহ সর্বমোট ১ কোটি ২০ লক্ষ ৪০ হাজার ব্যক্তি বিভিন্ন ধরণের ভাতা পাচ্ছেন এবং এজনা সরকারের এক বছরে বায় হচ্ছে প্রায় নয় হাজার চারশত কোটি টাকা। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছর হতে ডিজিটাল পদ্মতিতে ভাতা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এ উপজেলায় মোট ৩০৯৩০ জন বিভিন্ন ধরণের ভাতাভোগী রয়েছেন।
দারিদ্রবিমোচন (ক্ষুদ্রঋণ) কার্যক্রম পল্লী সমাজসেবা, পল্লী মাতৃকেন্দ্র, দপ্ত ও প্রতিবন্ধী ঋণ কার্যক্রম ও আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় কেশবপুর উপজেলায় ৪০৮৫ জন ঋণ গ্রহীতার মাঝে ২,০১,৯৩,৫৯৮/- টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া ৪৮৩১ জন ঋণ গ্রহীতার মাঝে ৫,০১,৬৯,০১০/- টাকা পুনঃবিনিয়োগ করা হয়েছে। এসব ঋণ গ্রহীতাদের কাছ থেকে মাসিক কিস্তি হিসেব ঋণ আদায় ও পুণঃবিনিয়োগ করা হয়ে থাকে।
বিগত এক বছরে প্রায় এক হাজার ব্যক্তির প্রতিবন্ধীতা সনাক্তকরণ জরিপ, অনলাইন সফটওয়্যারে ডাটা এন্ট্রি ও সুবর্ণণ নাগরিক পরিচয়পত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। একইসাথে তাদের অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন বিনামূল্যে অফিস থেকে সম্পন্ন করা হয়েছে।
ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, জন্মগত হৃদরোগ, ব্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ও স্ট্রোকে পারালাইজড রোগীদের এককালীন আর্থিক সহায়তার জন্য প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তির আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ করে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৭০ জন রোগীকে এককালীন সহায়তা হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ৩৫ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট প্রাপ্ত ৮ টি বেসরকারী এতিমখানার নিয়মিত তদারকি ১৪১ জন এতিম শিশুকে গ্রান্ট বাবদ ৩৩ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।
নিবন্ধিত ১৩৫ টি স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থার মধ্যে মোটামুটি সক্রিয় সংস্থাসমুহের কার্যক্রম পরিদর্শন, নতুন কমিটি গঠন ও অনুমোদন এবং নতুন সংস্থার নিবন্ধন প্রাপ্তির আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে এবং ৮ টি সংস্থাকে সমাজকল্যাণ পরিষদের মাধ্যমে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।
হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রমের আওতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃত অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সহায়ত হিসেবে বিগত বছরে ৮০ জন রোগিকে ৯৭ হাজার ২৭৯ টাকার ঔষধ প্রদান করা হয়েছে।
প্রবেশন কার্যক্রমের আওতায় বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ২১ জন অপরাধীর প্রাক-দণ্ডাদেশ প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ৩৩ জন প্রবেশনাধীন অপরাধীর নিয়মিত তৈমাসিক রিপোর্ট প্রস্তুত ও আদালতে প্রেরণ করা হয়।
এছাড়া হিজড়া, অনগ্রসর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় জরিপ, অনলাইন ডাটাবেজ প্রস্তুত ইত্যাদি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উপস্থিত সভায় সকল ভুক্তভোগী, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠন নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বিমল কুন্ড।