রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন

বিতর্কিত শিক্ষিকাকে বাঁচাতে মরিয়া ভালুকা উপজেলা শিক্ষা অফিসার

বিতর্কিত শিক্ষিকাকে বাঁচাতে মরিয়া ভালুকা উপজেলা শিক্ষা অফিসার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের ভালুকায় মাহমুদা আক্তার নামে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, কমিটি গঠন করে রেজুলেশন গায়েব করা সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ নিষ্পত্তি না করেই তিন বছর পর তাকে পূনরায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ভালুকা উপজেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমেদ উক্ত অভিযোগ গোপণ করে তাকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করেছেন বলে জানা গেছে । এলাকাবাসীর অভিযোগ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমদ ও সহ শিক্ষা অফিসার দেলোয়ার হোসাইন অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অভিযোগ গোপন করে এমনটা করেছেন। এসব কারনে এলাকাবাসীর মনে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। সূত্র জানায়, ২০২০ সালের শেষ দিকে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকা প্রকাশ না করার গুরুত্বর অনিয়ম, স্কুলের টাকা আত্মসাৎ সহ বেশ কিছু অভিযোগ উল্লেখ করে উপোজেলা শিক্ষা অফিস বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয় এলাকাবাসী।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে পরিত্যক্ত ভবনে কয়েক ফালি টিন লাগিয়ে ভাউচার দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ করার গুরুত্বর অভিযোগ আছে বলে জানা গেছে। বিদ্যালয়ের দেয়ালে রং না করেও তিনি ভাউচার দিয়ে টাকা তুলে নিয়েছিলেন। বই উৎসবের দিন কয়েকজন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বই না দিয়ে শিশুদের স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সাথে খারাপ আচরন করার কারনে বিদ্যালয়টি ধীরে ধীরে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমতে শুরু করে। অভিযোগ আছে মাহমুদা পারভীন দায়িত্ব পালনকালে একটি পক্ষকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার কারণে বিদ্যালয়টিতে মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। পরিত্যক্ত ভবন মেরামতের সময় একজন মিস্ত্রি উক্ত ভবন থেকে মদের বোতল উদ্ধার করে তা এলাকার লোকজনকে অবহিত করেন। এছাড়া স্কুল ভবনে অনৈতিক এবং অসামাজিক কর্মকান্ড হতো বলে জানান এলাকাবাসী। এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তখনকার সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিকদার মো: হারুন অর রশিদ ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারী মাহমুদা পারভীনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

উক্ত অভিযোগের ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বিতর্কিত শিক্ষিকা মাহমুদা পারভীনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোন তদন্ত করেননি টিইও সৈয়দ আহমদ। উল্টো সেই মাহমুদাকেই নিয়ম বহির্ভুতভাবে অভিযোগ গোপণ করে তদন্ত না করেই অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। শিক্ষা অফিসের এমন অনিয়ম এবং সহযোগিতায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বিতর্কিত শিক্ষিকা মাহমুদা পারভীন। তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী একের পর এক সুষ্পষ্ট অভিযোগ দায়ের করলেও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমদ ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দেলোয়ার হোসাইন অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কারণে তার কোনটিই আলোর মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০২০ সালে মেছের আলী নামের একজন জমি দাতাকে উপজেলা চেয়ারম্যান এর কাছে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট ব্যবহার করে জমিদাতা হিসেবে কমিটিতে স্থান দিয়েছিলেন বিতর্কিত শিক্ষিকা মাহমুদা পারভীন।

উক্ত কমিটি গঠনের পর বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে আসলে মাহমুদা পারভীন উক্ত রেজুলেশন ছিড়ে ফেলেন বলে জানা গেছে। বিদ্যালয়ের অভিভাবক, দাতা সদস্য ও এলাকাবাসী স্বাক্ষরিত তিন বছর আগের সেই অভিযোগের কোন তদন্ত না করে বিতর্কিত শিক্ষিকা মাহমুদা পারভীন এর কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে পুনরায় তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান পদোন্নতির সুপারিশ করায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী। ভালুকা উপজেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমেদ এবং সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার দেলোয়ার হোসেন এর এমন অনিয়ম এবং দুর্নীতির প্রতিবাদে গত অক্টোবরে মানববন্ধন এবং ঝাড়ুমিছিল করে এলাকাবাসী। জানা গেছে এর আগে ত্রিশাল এবং হোসেনপুরে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়ম এবং দুর্নীতির কারণে মানববন্ধনসহ খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন সৈয়দ আহমেদ। অভিযোগের বিষয়ে মাহমুদা পারভীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হননি। বলেন, এ বিষয়ে টিইও সাহেব ভালো বলতে পারবেন। উপজেলা শিক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান ও ভালুকা উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, কমিটি গঠনের সময় একজন দাতা সদস্যের মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট জাল পাওয়ায় আমি তা বাতিল করে দিয়েছিলাম। কাদিগড় সঃ প্রাঃ বিদ্যালয় নিয়ে অনিয়ম বা দূর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |