বৃহস্পতিবার, ০৪ Jun ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন

পাহাড়ি সৌন্দর্যের লীলাভূমি সীমান্ত ঘেরা নেত্রকোনার কলমাকান্দা

পাহাড়ি সৌন্দর্যের লীলাভূমি সীমান্ত ঘেরা নেত্রকোনার কলমাকান্দা

বিশ্বাজৎ সাহা, কলমাকান্দা, নেত্রকোণা

বিশ্বাজৎ সাহা, কলমাকান্দা, নেত্রকোণা : পাহাড়ি সৌন্দর্য্যে ঘেরা নেত্রকোনা জেলার সীমান্ত বর্তি উপজেলা কলমাকান্দা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর উপজেলাটির ৮ ইউনিয়নের তিনটিই পাহাড়ি সীমান্তবেষ্টিত। আর সেই সীমান্ত গুলো যেনো এক নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে আধার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কমবেশি সবকটি ইউনিয়নের রয়েছে সুন্দরের ঢেউ। তার মধ্যে অন্যতম রংছাতি, লেঙ্গুরা এবং খারনৈ ইউনিয়ন। শুধু গ্রাম নয়, মেঘালয়ের পাদদেশে রংছাতি ইউনিয়ন শুরু হয়ে খারনৈ পাড় হয়ে লেঙ্গুরা ইউনিয়ন অব্দি শেষ হয়েছে। প্রায় অর্ধ শতাধিক কিলোমিটার সীমানার নানা জায়গায় রয়েছে অপরূপ সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি। তবে নেই চলাচলের জন্য ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা।

রংছাতি ইউনিয়নের পাঁচগাও সীমান্তে রয়েছে কথিত চাঁদ সওদাগরের ডুবে যাওয়া নৌকার নাম ধরে পাহাড়ের নামকরণ চন্দ্রডিঙ্গা। যা দেখতে মানুষ দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসে। বন্ধুর পথ মাড়িয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ পিপাসুরা ছুটে চলেন সড়কবিহীন এ সকল সৌন্দর্য অবলোকনে। তবে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য কষ্টসাধ্য হলেও চোরাকারবারিদের জন্য যেন স্বর্গরাজ্য।

স্থানীয় এবং ঘুরতে আসা পর্যটকরা জানান, এসব পথ মসৃণ না করার অন্যতম কারণ চোরাচালান। কারণ মানুষ বেশি আসলে এবং পথ সহজ থাকলে এগুলো আর করা যাবে না। যেমন সাধারণ মানুষের পাহাড়ে চলাচলে বাধা না থাকলেও সাংবাদিক দেখলে বিজিবির টহল দল আটকে দেয়।

তারা জানান, সাংবাদিকরা তো সৌন্দর্য প্রচার করবে। তাহলে কেনো আটকানো হয়। এছাড়া প্রায় প্রতিদিন হাজারও দর্শনার্থী সহজে পাহাড়ের ভেতর যাচ্ছে আবার আসছে, বাধা নেই। ফেসবুকে ছবি দিচ্ছে। যে কারণে একজন আরেকজন থেকে জানার পর ঘুরতে আসছেন এসব এলাকায়। আবার হয়রানির শিকারও হচ্ছেন অনেকে। যা পাহাড়ের নিচে বসবাসকারীরাও স্বীকার করেন।

সীমান্তের হোতাপাড়া বাঘবেড় গ্রামের হানিফ সাইদুল সহ গ্রামের মানুষজন জানান, শত শত বছর পূর্বে চাঁদ সওদাগরের নৌকা ডুবেছিল। তাই পাহাড়টি কিছুটা নৌ আকৃতির দেখতে। যে কারণে এর নাম চন্দ্রডিঙ্গা বা চন্দ্রডিঙ্গি। যে যেভাবে পারেন চেনেন। এখানকার স্থানীয়রা পুরো বর্ষা মওসুমে বিপজ্জনক পথে চলাচল করেন। পাহাড়ি ঢলে এমনিতেই প্রতি বছর এসব এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার উপর নেয়া হয় না কোনো ধরনের সরকারি বেসরকারিভাবে মেরামতের উদ্যোগ।

বেশিরভাগ পাহাড়ের নিচে বসবাস করেন হাজং সহ উপজাতি ও ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন সম্প্রদায়। তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি। স্থানীয় কিছু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লোকজন জানান, চোরাচালান চন্দ্রডিঙ্গা দিয়ে হয় না। হয় মহিষখোলা ও বড়ুয়াকোনা সীমান্তে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |