রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের ভালুকায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমদ ও সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দেলোয়ার হোসাইনের অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও ঝাড়ুমিছিলকে কেন্দ্র করে তার কারন অনুসন্ধানে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তদন্ত করতে গিয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা সাইদুর রহমান নিজেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দাবী করে সাধারণ লোকদের হয়রানী ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত বুধবার (২৯ নভেম্বর) উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের ৭১ নং কাদিগড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। এসময় ওই কর্মকর্তা স্থানীয় শিক্ষা অফিসারদের দূর্নীতির প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়ার হুমকিও দিয়েছেন।
নাম পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে সেখানে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, বিদ্যালয়ের জমি থেকে বাঁশ কাটা, জমি দখল করে পেপে বাগান করা, জলবাদ্ধতা সৃষ্টি করা সহ বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূপুর আক্তার এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ প্রদানকারী চক্র আবুল কালাম তালুকদার, ভূমিদস্যু সাইফুল ইসলাম ও মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে ডিবি পুলিশ কর্তৃক আটককৃত আল আমিন কে সাথে নিয়ে তদন্ত করতে আসেন ভালুকা উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা সাইদুর রহমান।
এসময় মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে ডেকে আনার নির্দেশ দেন তিনি। বিদ্যালয়ের জমি দখল, বাঁশ কাঁটার গুরুত্বর অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে সেই ভূমি দস্যু সাইফুল ইসলাম, তার জামাতা রমিজ খান, স্থানীয় আল আমিন, শাহালম, আবুল কালাম তালুকদার, রিপন তালুকদার এর সামনে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় শাসিয়ে ভয়ভীতি দেখান ভালুকা উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা সাইদুর রহমান। এসময় পাশে থেকে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা সাইদুর রহমান এর সামনেই ভিডিও ধারন করেন রমিজ খান এবং আল আমিন গং। তাদের আরেক গং ফরিদ পাগলা কে দিয়ে এলাকায় লোকদের মাঝে আতংক সৃষ্টি করতে বিভিন্ন কথা বার্তা বলেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নাম পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, আমি বাড়ি থেকে একটা কাজে স্কুলের সামনে দিয়ে আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলাম। এসময় বিদ্যালয়ের সামনে আসতেই ভূমিদস্যু সাইফুল ইসলাম, তার জামাতা রমিজ খান, স্থানীয় আল আমিন আমাকে দেখা মাত্র বলে উঠেন, এই যে আসছে এরে ধরেন। এর ধরলে সব বের হয়ে আসবে, এই সব করাইছে। তারা এমনভাবে আমাকে উদ্দেশ্যে করে কথা বলছে যেন আমি দাগী কোন আসামী। তাদের কথায় সায় দিয়ে আমার সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন সেখানকার এক লোক। তিনি আমাকে বলেন, আমাকে চিনেন আমি কে। এখন আমিই ইউএনও। চাইলে আপনাকে এখন এখান থেকে ধরে নিয়ে যেতে পারি।
রিমান্ডে নিলেই বুঝবেন কেমনে কথা বের হয়। আমাকে কাগজে স্বাক্ষর করতে ভয়ভীতি দেখান। আমি স্বাক্ষর না করতে চাইলে তিনি আমার ফোন নাম্বার নিয়ে বলেন যখন ইউএনও ডাকবে তখন মজা বুঝবেন। মানবন্ধন করার কারন জানতে চাইলে আমি বলি, স্কুলে অনেক অনিয়ম দুর্নীতি হইছে। একটা মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে নূপুর ম্যাডাম কে বদলি করার জন্য চেষ্টা করা হইছে। এসিল্যান্ড ম্যাডাম তদন্ত করলো সেই তদন্ত এদিকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ভালুকা উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা সাইদুর রহমান এর স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চিঠি বিতর্কিত শিক্ষিকা মাহমুদা, রমিজ, আলামিন গংদের মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ ছাড়াই বেশ কয়েকটি চিঠি ইতিমধ্যে এলাকায় অন্য একটি পক্ষের লোকজনের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে । এসব ব্ল্যাংক চিঠিতে নিজেদের পছন্দের লোকদের নাম বসিয়ে তাদের উপস্থিত থাকতে বলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যার একটি চিঠি প্রতিবেদকের কাছেও সংরক্ষিত রয়েছে।
দূর্নীতির প্রতিবাদ করা, প্রতিবাদে মানববন্ধন করা বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে কবে থেকে অপরাধ বলে গন্য হচ্ছে যে সে কারনে কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যাবেনা, প্রতিবাদ করলে রিমান্ডে যেতে হবে, একজন সরকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরনে ক্ষুব্ধ সেখানে উপস্থিত লোকজন। মানবন্ধনের কারন অনুসন্ধানে তদন্ত হোক সমস্যা নেই কিন্তু এই মৎস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগে তদন্ত করা উচিত বলে জানান তারা । অভিযোগ রয়েছে এই মৎস কর্মকর্তা একটি পক্ষের হয়ে কাজ করছেন, তিনি মানববন্ধনে অংশ নেয়া কাউকেই চিঠি দিয়ে ডাকেননি, ঘটনার দিন ফোন করে ডেকেছেন এবং অন্য পক্ষের লোকজনের সামনে তাদের হেয় করেছেন।
উক্ত তদন্ত কমিটির সদস্য উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিলড সুপারভাইজার মোঃ শামীম হোসেন এর সাথে এলাকার লোকজন এর পক্ষ থেকে কথা বললে, উক্ত তদন্তের ব্যাপারে স্বপ্রনোদিত হয়ে উপজেলার দুইজন বিতর্কিত শিক্ষা অফিসারের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে কোন তথ্য দিতে চাইলে তা আমলে নেওয়া হবেনা বলে জানান ।
তদন্তের বিষয়টি আগে থেকে জানিয়ে সর্বস্তরের জনসাধারনের উপস্থিতিতে করার কথা বললে তিনি এলাকায় মারামারির সৃষ্টি হতে পারে বলে ইংগিত দেন। কে বিশৃঙ্খলা করতে পারে এসব জানতে চাইলে তিনি প্রসংগ এড়িয়ে যান। এসময় বিশৃংখলা সৃষ্টি হলে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা নেওয়ার কথা বললে তিনি তা সম্ভব না বলে আহবায়কের সাথে কথা বলতে বলেন।
এ ব্যাপারে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমানের কাছে জানতে তার মোবাইল কল করেও পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, উপজেলার এই দুই বিতর্কিত শিক্ষা কর্মকর্তার অনিয়ম, দূর্নীতির প্রতিবাদে ও তাদের শাস্তির দাবিতে কিছুদিন আগে মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল করেছিলো ৭১ নং কাদিগড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিদাতা, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। এমনকি সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন জুয়েল, জমিদাতা মাজিবুল হক তালুকদার সহ অন্তত ৪৬ জন অভিভাবক, এলাকাবাসী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে উপজেলার এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগও দিয়েছেন বলে জানা গেছে।