পাথরঘাটা দুটি ব্রিজ ভেঙে চরম ভোগান্তি দুই উপজেলার মানুষ

মোঃ মাহমুদুল হাসান , পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদাতা

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৭:৪১ পিএম

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার  ও পাশের একটি উপজেলার মধ্যে দুটি ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় ভোগান্তিতে  পড়েছে , শাপলেজা, কাঠালতলী ও নাচনাপাড়া এই ৩ ইউনিয়নের মানুষের  যাতায়াতের প্রধান ভরসা ছিল দুটি ব্রিজ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ব্রিজগুলো অচল হয়ে গেলেও খুবই নড়বড়ে ছিলো । ফলে দুই উপজেলার হাজারো মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম থমকে গেছে যেন।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে নারী ও শিশু শিক্ষার্থীরা । 

স্থানীয়রা জানান , একসময় এই ব্রিজগুলো দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাফেরা করতেন। তবে বছরের পর বছর সংস্কার হয়নি। প্রথমে ফাটল দেখা দিলেও কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো পদক্ষেপ ছিল না ।  

নাচনাপাড়া বাজারের উত্তর পাশে মাঠবাড়িয়া ও  পাথরঘাটা উপজেলার সংযোগ কাঠের ব্রিজটি দীর্ঘদিন আগে ভেঙে গেলে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে একটি সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি জোয়ারের চাপে সেটিও ভেঙে যায়। ফলে দুই পাড়ের মানুষ এখন বাধ্য হয়ে  খেয়া-নৌকায় পারাপার করছেন।

অন্যদিকে, নাচনাপাড়া বাজারের দক্ষিণ পাশে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও উপজেলা পরিষদের  অর্থায়নে,স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মিলে একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু গত ১০ সেপ্টেম্বর জোয়ারের চাপে সেটিও ভেঙে যায়। ফলে কাঠালতলী, চরদুয়ানী ও নাচনাপাড়া এই তিন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ চলাচলে বর্তমানে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

এতে তিন ইউনিয়নের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ে। 

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২০ বছর আগে বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মণি এখানে একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ ১৬ বছর আওয়ামী লীগের টানা সরকারের আমলে নতুন কোনো ব্রিজ নির্মাণ হয়নি। যদিও প্রায় ১০ বছর আগে নতুন করে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হলেও তা অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় বন্ধ রয়েছে। দ্রুত স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ ও বিকল্প সাঁকোই পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 

বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীরা বলছে, “প্রতিদিন আমাদের দেরি হয়। ভাঙা ব্রিজ পার হতে গিয়ে ঝুঁকি নিতে হয়। কেউ অসুস্থ হলে তো অবস্থা আরও ভয়াবহ।” 

রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে বড় সমস্যা। ব্রিজ না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স বা ভ্যান যেতে পারছে না। জরুরি সময়ে রোগীকে নৌকায় করে নিয়ে যেতে হয়, এতে সময় নষ্ট হচ্ছে এবং ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে । অন্যদিকে  ফসল বাজারে নিতে না পেরে কৃষকরা পড়েছেন বড় ধরনের লোকসানে। স্থানীয় কৃষক  বলেন, “ধান, সবজি বা মাছ বাজারে নিতে হলে আমাদের এখন দ্বিগুণ খরচ পড়ছে। অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে যায়।” 

Advertisement

Link copied!