পাবনা মানসিক হাসপাতালকে অত্যাধুনিক ‘আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে’ রূপান্তর করতে ১হাজার ৩৬৫ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক বৈঠকে এটিসহ আরও কয়েকটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রধান উপদেষ্টা ও একনেকের চেয়ারপারসন মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে বৈঠকের পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
সাধারণত একনেক সভার পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা। তিনি ‘অসুস্থ থাকায়’ এদিন সংবাদ সম্মেলনে আসেননি। পরে তার দপ্তর থেকে প্রকল্প অনুমোদনের তথ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আকারে দেওয়া হয়েছে।
এতে দেখা গেছে, পাবনা মানসিক হাসপাতালকে অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক রূপ দিতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। এটির ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ১ হাজার ৩৫৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যেটির পুরো অর্থায়নই করবে সরকার।
১৯৫৭ সালে স্থাপিত মানসিক এ হাসপাতালে বর্তমানে ৫০০টি শয্যা রয়েছে। কয়েক দফায় বাড়িয়ে সবশেষ ১৯৯৬ সালে তা এ সংখ্যায় উন্নীত করা হয়। প্রকল্পটির অর্থায়নের মাধ্যমে পাবনা মানসিক হাসপাতালটি ৫০০ শয্যা থেকে ১০০০ শয্যা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে’ রূপান্তর করা সম্ভব হবে।
মাদকাসক্ত নিরাময় ওয়ার্ডসহ ১৮টি ওয়ার্ডে পেয়িং শয্যা আছে ১৫০টি এবং নন-পেয়িং ৩৫০টি।
সোয়া ১১১ একরের এ হাসপাতালের ৩০ একর অংশ দেওয়া হয়েছে পাবনা মেডিকেল কলেজকে। চাহিদা অনুযায়ী সেখানে অবকাঠামো সুবিধা নেই। সেবা সুবিধাও অপর্যাপ্ত বলে প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটিতে বহির্বিভাগ, অন্তঃ বিভাগ, বৃত্তিমূলক ও বিনোদনমূলক চিকিৎসা বিভাগ চালু থাকলেও এক্স-রে, প্যাথলজি, ইসিজি, ইইজির বাইরে তেমন সুবিধাও নেই। পাঁচটির মত একতলা, দো’তলা ও তিনতলা ভবন থাকলেও বহুতল ভবন না থাকায় আবাসন সুবিধার ঘাটতি ও আন্তর্জাতিক মানের নানা সুবিধার অপর্যাপ্ততা রয়েছে।
নতুন এ প্রকল্পের মাধ্যমে এর অনেকটাই নিরসনের পরিকল্পনা করছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণে মন্ত্রণালয়। এ প্রকল্প তাদেরই অধীনে বাস্তবায়ন করা হবে।
একনেক সভায় এদিন এটিসহ আরও ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর দুটি নতুন এবং সাতটি পুরনো প্রকল্প সংশোধন করে ব্যয় বাড়ানো বা কমানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :