প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে। কৃষকের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে আকাশ বাতাস,শষ্য রক্ষার যুদ্ধে পরিবার পরিজন নিয়ে দিন রাত তারা নিজ জমিতে হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করছে।
দূর্যোগ মোকাবেলায় নিজেদের উদ্যোগে বাধঁ নির্মান থেকে শুরু করে ফসল রক্ষায় কি না করছেন তারা।সারাদেশের আপামর জনতার ধ্যানে ভাবনায় একটাই স্বপ্ন সোনালী ফসর ঘরে তুলবে ।
এমন অবস্থায় যদি মানবসৃষ্ট কোন দূর্যোগে সেই স্বপ্ন আকাংক্ষায় আঘাত হানে তবে কি মেনে নেওয়া যায়,সেই ক্ষতি যদি অর্থের মানদণ্ডে পূরনের চেষ্টা করা হয় তা কি সম্ভব?। একজন কৃষকের উৎপাদিত ফসল একটি পরিবারের সারা বছরের নির্ভশীলতার শেষ আশ্রয়স্থল। সেই ফসল এর পুড়া ছাই যখন কৃষকের দেখতে হয়,তখন চোখে পানি আর বুকের চাপা আর্তনাদ করা ছাড়া কিছুই থাকেনা।
খবরের কাগজ খোললেই দেখা যায় অব্যাবস্থাপনায় গড়ে উঠা ইটভাটা মালিকদের হেয়ালীপনায় পুড়েছে কৃষকের ভাগ্য,কয়লায় পরিনত হয়েছে হাজার হাজার হেক্ট জমির ধান। নূন্যতম ক্ষতিপূরনের আসায় কৃষকেরা দল বেধেঁ ছোটঁছে প্রশাসন থেকে জনপ্রতিনিধিদের কাছে । ইটভাটা মালিক মূরলদের বিরোদ্ধে মানববন্ধন,মিছিল,অনশন করার ঘটনা ঘটছে অহরহ। এতে সামান্য কিছু অর্থ তারা হাতে পেলেও তাদের অপূরনীয় ক্ষতি কি পূরন করা সম্ভ। আর যদি কোন ভাটার মালিকপক্ষ কৃষকের ক্ষতির পরিপূর্ণ অর্থ পুষিয়ে দেয়,তাতেই কি দায় শেষ হয়ে যায়। ইটভাটার আগুনে প্রতিবছর দেশের লক্ষ লক্ষ হেক্টর জমির ধান পুঁড়ে ছাঁই হয়ে যায়। যে ধান কয়েক দিনের ব্যবধানে গোলায় উঠার কথা,সেই সোনালী ফসল পড়ে থাকে মাটিতে, এই পুড়ে যাওয়া ফসল শুধু কৃষকের গোলা নয় জাতীয় শষ্য ভাণ্ডার থেকেও ছিটকে পড়ে। আদৌ কি এই ক্ষতি পূরন করা সম্ভব,কে পূরন করবে,কিভাবে করবে, নাকি দায়সারা পর্যন্তই শেষ।
কৃষি প্রধান এই দেশের কৃষক ও কৃষি জমির প্রধান শত্রু যত্রতত্র গড়ে ওঠা ইটভাটার আগুন পুড়ায় ফসল, আর মালিকেরা ব্যাস্ত উর্বর জমির মাটি কেটে পুকুর ও বড় বড় জলাসয়ে পরিনত করতে। এই সব বিষযে আইনে স্পষ্ট বিধান থাকলেও মেনে চলার তোয়াক্কা করছেনা কোন ভাটা মালিক,এ যেনো ফসলী জমি গ্রাস করার দীর্ঘতম প্রতিযোগীতা।
গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইটের ভাটার আগুনে ঝলসে পুঁড়ে গেছে আধা পাঁকা ধানী জমির ফসল। খবর নিতে সরেজমিনে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়ন ও ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার আমতা ও গাংগুটিয়া ইউনিয়নে পুঁড়ে যাওয়া ধানের জমিতে গিয়ে কৃষকদের আহাজারি চোখে পড়ার মতো। শুধু এই দুই উপজেলাতেই ভাটার আগুনে পুড়েঁছে প্রায় ৬/৭ শত হেক্টর জমির ধান। এভাবে সারাদেশের ক্ষতি হতে থাকলে, তার পরিমান যোগ করলে দেখা যাবে উৎপাদিত ধানের বড় অংশই হারিয়ে গেছে।
কেন এমন ঘটনা ঘটে এই প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অইচ্ছুক এক ইটভাটা মালিক বলেন, হেয়ালীপনা,যান্ত্রিক সমস্যা ও অদক্ষ শ্রমিক এর কারনে ধান পুড়াঁর ঘটনা ঘটে। এছাড়াও যদি কোন ইটের ভাটায় সঠিক ভাবে ইট পুড়ানো না হয়, সময়ের আগেই ইট পুড়ানোর কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় তবে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তর পরিচালক,সরেজমিন উইং মোঃওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আমরা সবসময় কৃষকের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করি। তবে প্রতি বছরই আমাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটার আগুনে ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়, আইনের জটিলতার কারনে এর সঠিক সমাধান করা সম্ভব হচ্ছেনা।
বিষয় টি নিয়ে মির্জাপুরের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা বলেন, প্রায় প্রতি বছরেই আমাদের ধান ভাটার আগুনে ঝলসে যায়, আর আমরা ক্ষতিপূরনের আসায় সরকারি অফিস ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে ঘুরতে থাকি, এসব বিষয়ে সহজে ভাটার মলিকেরা কোন পাত্তা দেয়না। এ সময় তারা সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ইট ভাটার বিষয়ে আইন সম্মত ব্যাবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানান।
প্রতি বছরই একই ভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের ধান পুড়েঁ ছাঁই হয়, দীর্ঘদিন পরে প্রশাসনিক সহায়তায় কৃষক কিছু পরিমান ক্ষতির অর্থ পেলেও জাতীয় ভাবে যে ক্ষতি হয় তা কি পূরণ করা সম্ভব। যদি পূরণ না করা যায় তাহলে এর সমাধান কি, কৃষক বাঁচাতে ইট ভাটার লাগাম টেনে ধরার কি কেউ নেই। আইন কি শুধু খাতা কলমে আর বই এর পাতাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :