ভোলা-২ আসনে এমপি হাফিজ ইব্রাহিমের ‘পরিচ্ছন্ন রাজনীতির’ উদাহরণ

রিয়াজ ফরাজী , বোরহানউদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম

ভোলা-২ আসনে (দৌলতখান- বোরহানউদ্দিন) উপজেলায় রাজনৈতিক সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমের ভূমিকা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেভাবে প্রতিহিংসার রাজনীতি চর্চা হয়েছে, বিএনপি সেই পথ পরিহার করে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ তৈরি করছে।

তাদের ভাষ্য, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বোরহানউদ্দিনে আওয়ামী লীগের উপজেলা পর্যায় থেকে তৃণমূলের কোনো নেতাকর্মী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হননি। মামলা-হামলা কিংবা হয়রানির অভিযোগ ছাড়াই তারা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এটিকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলম খান   জানান, হাফিজ ইব্রাহিম সবসময় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ৫ আগষ্টের পর বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “রাজনীতি হবে জনগণের কল্যাণে, প্রতিশোধের জন্য নয়।” তার এমন বক্তব্যে রাজনৈতিক সহনশীলতার বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এছাড়াও তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে আমাদের নেতা আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিমের বাড়িতে কয়েকবার ভাঙচুর করেছে, এমনকি বাসায় অবরুদ্ধ করে রেখেছে, এটা বোরহানউদ্দিনের সকলেরই জানা, তবে ৫ আগষ্টের পর সাবেক এমপি আলী আজম মুকুলের বাসায় একটি ইটের কণাও মারেনি। আমাদের নেতা হাফিজ ইব্রাহিম প্রতিহিংসার রাজনীতি করেনা। তিনি গনতান্ত্রিক চার্চা এবং জনগণের কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রাধান্য দিয়ে আসছেন। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও হাফিজ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে আজ অব্দি কেউ বলতে পারবেনা, উস্কানিমূলক বক্তব্য দমন-পীড়ন এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে কেউ আনতে পারবে কিনা আমার মনে হয়না।

এইসময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী শহিদুল আলম নাসিম বলেন- “আমি উপজেলা থেকে শুরু করে বোরহানউদ্দিন পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে কমবেশি উঠাবসা করি। বিভিন্ন সময় দলীয় ও সামাজিকভাবে জমিজমা সংক্রান্ত অনেক বিচার-সালিশ করতে হয়, যেখানে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীও আসেন। তবে আমরা কখনো প্রতিহিংসামূলক সালিশ করি না। যে সঠিক, তাকে তার ন্যায্য প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি—সে যে দলেরই হোক।”

দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সামাজিক সালিশ ও বিচার ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার অভিযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে বোরহানউদ্দিনে দল-মত নির্বিশেষে ন্যায়ভিত্তিক সমাধানের চেষ্টা করি। আমরা যদি ফ্যাসিদের মতো অনিয়ম করি, একজনের জমি অন্যকে বুঝিয়ে দেই, তাহলে তাদের মধ্যে আর আমাদের মধ্যে পার্থক্য থাকলো কি? আমরা এমন ভাবে রাজনীতি করতে চাই, দলমত নির্বিশেষে সবাইকে প্রাধান্য দিতে চাই। আইন মেনে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রেখে চলতে চাই। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংঘাত, মামলা ও প্রতিহিংসার সংস্কৃতি সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। তবে বর্তমানে বোরহানউদ্দিনে তুলনামূলক শান্ত রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বস্তি ফিরিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক সহাবস্থান ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। আর সেই জায়গা থেকেই বোরহানউদ্দিনে হাফিজ ইব্রাহিমের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

 

Link copied!