দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্র যতই কঠোর অবস্থান নিক না কেন, গণমাধ্যমের ভূমিকা ব্যতীত কোনো দেশেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। কারণ সাংবাদিকেরা শুধু খবর পরিবেশন করেন না তারা জনস্বার্থের পক্ষে, ন্যায়বিচারের পক্ষে এবং স্বচ্ছ রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রহরী। কিন্তু এই প্রহরাদায়িত্ব তখনই ফলপ্রসূ হয়, যখন সাংবাদিক সমাজ একত্র থাকে, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয়।
আজ দেশে যেভাবে দুর্নীতির জাল বিস্তৃত হচ্ছে, সেখানে অনেক দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি, প্রভাবশালী চক্র ও ক্ষমতাশালী লবিগুলো সত্য প্রকাশকে দমন করতে সবসময় চেষ্টা চালায়। তারা কখনো ভয় দেখায়, কখনো নিবৃত্ত করতে চাপ প্রয়োগ করে, কখনো আবার সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে সত্যের লড়াইকে দুর্বল করতে চায়। কিন্তু ইতিহাস বলছে—যখনই সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তখনই দুর্নীতিবাজদের ঘুম হারাম হয়েছে। তাদের অপকর্মের মুখোশ খুলে গেছে, বেরিয়ে এসেছে লুকানো সত্য।
সাংবাদিকদের পেশাগত বৈচিত্র্য থাকতে পারে, মতভেদও থাকতে পারে; কিন্তু দুর্নীতি, অনিয়ম, দুঃশাসন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থানের প্রশ্নে কোনও বিভক্তি থাকার সুযোগ নেই। দুর্বল সাংবাদিকতা দুর্নীতিবাজদের শক্তি জোগায়, আর শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিকতা দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রাচীর তৈরি করে।
গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার জন্য তিনটি জিনিস আজ সবচেয়ে জরুরি,
১) পেশাগত ঐক্য: সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে দলাদলি বা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
২) নিরাপত্তা ও অধিকার: সত্য প্রকাশকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাংবাদিকরা ভয়মুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারেন।
৩) সততা ও দায়বদ্ধতা: সাংবাদিকতার নিজস্ব নৈতিক মানদণ্ড রক্ষা করতে হবে, যাতে গণমাধ্যম নিয়ে মানুষের আস্থা অটুট থাকে।
দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে শুধু আইন বা নীতিমালা যথেষ্ট নয় স্বাধীন, ন্যায়পরায়ণ ও ঐক্যবদ্ধ গণমাধ্যমই পারে শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি গড়ে দিতে। তাই বলা যায়, সাংবাদিকরা যখন ঐক্যবদ্ধ হন, তখন দুর্নীতিবাজরা শুধু আতঙ্কিতই হয় না তাদের রাতের ঘুমও হারাম হয়ে যায়। কারণ সত্যের শক্তির সামনে কোনো অসত্যই স্থায়ী হতে পারে না।
মোঃ খায়রুল আলম রফিক
চেয়ারম্যান
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ
কেন্দ্রীয় ইউনিট।
আপনার মতামত লিখুন :