গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ড, ন্যায়বিচারের সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা চাই

নিউজ ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৪:৩০ পিএম

গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ড আমাদের বিবেককে আবারও নাড়া দিয়েছে। সমাজ ও রাষ্ট্র যখন দুর্নীতি, অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের নির্ভীক ভূমিকার ওপর নির্ভরশীল, তখন একজন সাংবাদিককে নৃশংসভাবে হত্যা করা গণতন্ত্রের বুকে আঘাতের সামিল। সাংবাদিক তুহিন শুধু একজন সংবাদকর্মী ছিলেন না; তিনি ছিলেন স্থানীয় জনগণের কণ্ঠস্বর, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী।

কিন্তু প্রশ্ন হলো একজন সাংবাদিককে দিনের আলোয় হত্যা করার সাহস অপরাধীরা পায় কোথা থেকে? এর পেছনে যে দায়মুক্ত সংস্কৃতি, দীর্ঘদিনের ধীর তদন্ত, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সাংবাদিক নির্যাতনের বিচারহীনতাই দায়ী তা আর গোপন নয়। সাংবাদিকদের ওপর হামলা-হত্যার কতগুলো ঘটনা গত কয়েক বছরে ঘটেছে, যার বেশিরভাগই এখনো চূড়ান্ত বিচার পায়নি। ফলে অপরাধীরা বারবার নির্ভয়ে নিষ্ঠুরতার পুনরাবৃত্তি করছে।

নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। কারণ সাংবাদিক হত্যা মানে শুধু একজন মানুষের জীবন শেষ করা নয়; এটি তথ্যপ্রবাহ থামিয়ে সমাজকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার প্রচেষ্টা। এই হত্যার নেপথ্যে কারা, কোনো সিন্ডিকেট বা প্রভাবশালী গোষ্ঠী আছে কি না—তা উদঘাটন করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

কী চাই এখন?

প্রথমত, সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড ও প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দির ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত করতে হবে। দীর্ঘসূত্রিতা চলতে দিলে প্রমাণ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

দ্বিতীয়ত, ঘটনার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী, উস্কানিদাতা, আর্থিক সুবিধাভোগীসহ সকলকে আইনের আওতায় আনা জরুরি। শুধু ‘সরাসরি হত্যাকারী’ গ্রেপ্তার করলেই বিচার সম্পূর্ণ হয় না।

তৃতীয়ত, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা প্রয়োজন।

চতুর্থত, কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে যে সাংবাদিকদের ওপর হামলা-হত্যা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না; এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধেও অপরাধ।

তুহিন হত্যাকাণ্ড কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এটি জাতির সামনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরীক্ষা। পরিবারের শোক, সহকর্মীদের ক্ষোভ এবং সমাজের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানাতে হলে এই হত্যার বিচারে কোনো রকম শৈথিল্য, প্রভাব বা আপস চলবে না।

সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করা আজ শুধু একটি পরিবারের দাবি নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের নৈতিক দায়।

 

মোঃ খায়রুল আলম রফিক 

সম্পাদক 

দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ

Link copied!